একটি সচল ও ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্রের প্রাণভোমরা হলো তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কিন্তু কুমিল্লার বরুড়া পৌরসভা বাজারের বর্তমান চিত্রটি দেখলে মনে হবে, অপরাধীদের কাছে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেন এক মস্ত বড় তামাশা। গত ৯ জুনের বড় ধরনের চুরির রেশ কাটতে না কাটতেই আজ ২৮ জুন (রবিবার) ভোরে বাজারের পশ্চিম এলাকায় আবারো এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক এমন চুরির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ, চরম নিরাপত্তাহীনতা এবং আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রশ্ন উঠেছে, আমরা কি তবে চোর চক্রের মর্জির ওপর ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখব?সর্বশেষ আজ ২৮ জুন (রবিবার) ভোর বেলায় বরুড়া পশ্চিম বাজারের “নুরহান টেলিকম এন্ড কম্পিউটার” দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। ভোরের আলো ফোটার ঠিক আগ মুহূর্তে, চোর চক্র সুযোগ বুঝে দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ভেতরে থাকা সবকটি মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। প্রকাশ্য দিবালোকের ঠিক আগ মুহূর্তে এমন একটি চুরির ঘটনা বাজারের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।এর আগে গত ০৯ জুন ২০২৬ (মঙ্গলবার) দিবাগত গভীর রাতে বরুড়া বাজারের থানা রোড মধ্যম বাজার কাপুড়িয়া পট্টিতে এক যোগে ‘স্বর্ণ নিকেতন’, ‘ব্রজান্দ বস্ত্রালয়’ এবং ‘বাসন্তি বস্ত্রালয়’ এই তিনটি বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটেছিল। চোর চক্রটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে দোকানগুলোর ওপরের টিনের চাল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা এবং মূল্যবান কাপড় লুটে নেয়।সবচেয়ে আশ্চর্যের এবং উদ্বেগের বিষয় হলো, ঘটনাগুলো যেখানে থানা সংলগ্ন এবং অত্যন্ত ব্যস্ততম একটি এলাকায় ঘটেছে, সেখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি কতটা জোরালো ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।৯ জুনের চুরির ঘটনার পর বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসাদুজ্জামান রনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি বাজারের নিরাপত্তা জোরদার এবং চোরদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশাসনের সেই আশ্বাসের পরেও আজ ২৮ জুন পুনরায় চুরির ঘটনা ঘটায় ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রশাসনের আশ্বাস কি তবে কেবলই মুখের কথা? চোরদের দমনে কেন দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না?ব্যবসায়ীরা কর দেন, খাজনা দেন, এবং দিনরাত হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাওয়ার পর যদি তাদের বুক দুরুদুরু কাঁপতে থাকে যে, সকালে এসে দোকান আস্ত পাবেন কি না, তবে এই দায় কার? চোর চক্রের এই অবাধ বিচরণ প্রমাণ করে যে, বরুড়া বাজারের নৈশ প্রহরী ব্যবস্থা এবং পুলিশি টহল অত্যন্ত দুর্বল।আমরা অবিলম্বে বরুড়া পৌরসভা বাজারে নৈশ প্রহরী সংখ্যা বৃদ্ধি, সিসিটিভি নজরদারি জোরদার এবং পুলিশি টহল বাড়ানোর জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে, এই সংঘবদ্ধ চোর চক্রকে অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ব্যবসায়ীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে; প্রশাসন যদি এখনই কঠোর না হয়, তবে এই ক্ষোভ যেকোনো সময় গণ-অসন্তোষে রূপ নিতে পারে।