
চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে প্রশাসনিক কার্যক্রমের আড়ালে এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে অফিস সহকারী খান মিজানুল রহমান মিজানের বিরুদ্ধে। ঘুষ গ্রহণ, বদলি বাণিজ্য, ভুয়া জোত পারমিট অনুমোদন এবং স’মিলের লাইসেন্স নবায়নে জালিয়াতি করে তিনি কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে দাবি করেছেন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।
অনিয়ম ও প্রশাসনিক প্রভাবের চিত্র:
অনিয়মিত উপস্থিতি ও প্রভাব বিস্তার: টানা তিন বছরের বেশি সময় একই পদে কর্মরত থাকলেও মিজান নিয়মিত অফিস করেন না। সপ্তাহে রোববার বা সোমবার ঢাকা থেকে বিমানে চট্টগ্রামে আসেন এবং বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যেই ঢাকায় ফিরে যান। অনুপস্থিত থাকলেও মন্ত্রণালয়ে কর্মরত আত্মীয়ের (স্ত্রীর ভাই) প্রশাসনিক প্রভাব দেখিয়ে ডিএফওদের সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
পোস্টিং ও বদলি বাণিজ্য: বদলির আদেশে নির্ধারিত অর্থ না দিলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বদলির হুমকি দেওয়া হয়। পোস্টিং ভেদে নির্ধারিত ‘রেট’ রয়েছে—চেক স্টেশনে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা এবং রেঞ্জ বা বিট ভেদে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। অর্থ নিয়ে বদলি না করার এবং টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগও করেছেন অনেক ফরেস্ট গার্ড।
ভুয়া জোত পারমিট ও কমিশন: ভুয়া জোত পারমিটের কাগজপত্র, খাড়া মার্কা ও ট্রানজিট পাস (টিপি) অনুমোদনের প্রতিটি ধাপে কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি ঘনফুটে ১০ টাকা বা তারও বেশি কমিশন আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
বিধি ভেঙে স’মিল লাইসেন্স নবায়ন: 'করাতকল বিধিমালা, ২০১২' অনুযায়ী ৩ মাসের বেশি মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স নবায়নের সুযোগ না থাকলেও, মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ২ থেকে ৪ বছর ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সও নবায়ন করা হচ্ছে।
অবৈধ সম্পদের পাহাড়: ঘুষ ও জালিয়াতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে মিজান ঢাকায় একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন।
বন বিভাগের ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই সিন্ডিকেটের অঘোষিত ক্ষমতা ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।