
সাম্প্রতিক টানা বন্যায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে নেপালের উত্তর ও মধ্যাঞ্চল। রাসুয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিংসহ একাধিক জেলায় বাগমতী ও ভোতেকোশি নদীর উপচে পড়া জলে লণ্ডভণ্ড জনপদ। কাঠমান্ডুর প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১,১২৭ ছাড়িয়েছে এবং অন্তত ৩,৯০০ মানুষ এখনও নিখোঁজ। দেশের অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলের তথ্যমতে, কাঠামো পুনর্নির্মাণে নেপালের প্রায় ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন, যা দেশটির মোট অর্থনীতির প্রায় ১০ শতাংশ।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা এই দুর্যোগকে ‘হিমালয়ান সুনামি’ আখ্যা দিয়ে বলছেন, নেপাল-চীন সীমান্তের সংবেদনশীল পার্বত্য অঞ্চলে বিশাল বরফ ও পাথর ধসের কারণেই এই আকস্মিক দুর্যোগ।
ঐতিহাসিক ক্ষতিপূরণের দাবি: নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্ব উষ্ণায়ন বা কার্বন নির্গমনে নেপালের ভূমিকা নেই বললেই চলে। অথচ তার ফল ভুগতে হচ্ছে তাদের। তাই দান-খয়রাত নয়, বরং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও আইনগত ক্ষতিপূরণ দাবি করছে কাঠমান্ডু।
চিহ্নিত শীর্ষ দূষণকারী দেশ: ক্ষতিপূরণ প্রদানে বিশ্বের প্রধান তিন গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশ—চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত-কে কাঠমান্ডু কাঠগড়ায় তুলেছে।
জাতিসংঘে তোলার সিদ্ধান্ত: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র ‘বালেন’ শাহ এই ক্ষতিপূরণ ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন।
তহবিলে আনুষ্ঠানিক আবেদন: জরুরি পরিস্থিতির ধাক্কা সামলাতে জাতিসংঘ সমর্থিত 'ফান্ড ফর রেসপন্ডিং টু লস অ্যান্ড ড্যামেজ' (Loss and Damage Fund)-এ ক্ষতিপূরণের আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠিয়েছে নেপাল।
ইউরোপীয় কমিশনের EDGAR (২০২৪) ডেটা অনুযায়ী নির্গমনের চিত্র:
আন্তর্জাতিক চাপ ও পরিসংখ্যান প্রসঙ্গে ভারত দাবি করে আসছে—তাদের ঐতিহাসিক নির্গমন এবং মাথাপিছু নির্গমন উন্নত বিশ্বের তুলনায় অনেক কম। ফলে ঢালাও দোষ না চাপিয়ে অতীত শিল্পায়নের ইতিহাস ও দেশের জনসংখ্যার মাথাপিছু অনুপাত হিসাব করা উচিত।
হিমালয় অঞ্চলের ভঙ্গুর ভূপ্রকৃতি এবং সীমান্ত ঘেঁষে নির্মাণকাজের পরিণতি কতটা মারাত্মক হতে পারে, সাম্প্রতিক এই বিপর্যয় আবারও সেই প্রশ্ন তুলে দিল।