
রোদ, বৃষ্টি কিংবা নিঝুম রাত—পথের ধারের দৃশ্যটা প্রায় একই থাকে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকেন কিছু সাধারণ মানুষ। রিকশার হ্যান্ডেল ধরে রাখা চালক, ফুটপাতের হকার, কিংবা কাজের ক্লান্তি ভুলে দাঁড়িয়ে থাকা হোটেলের কর্মী। তাঁরা জানেন না গাড়িটি ঠিক কোন মিনিটে পৌঁছাবে, তবু দৈনন্দিন ব্যস্ততার হিসাব পেছনে ফেলে তাঁদের একটাই অপেক্ষা—গাড়ির ভেতরের মানুষটিকে একনজর দেখা। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রতিদিনের এই ছবি যেন এখন রূপ নিয়েছে এক নীরব ভালোবাসার গল্পে। অফিসে যাওয়া কিংবা ফেরার পথে রাজধানী ও বিভিন্ন সড়কের পাশে এভাবেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা যায় অসংখ্য মানুষকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই চেনা মুখগুলোর সংখ্যাও কেবল বাড়ছে।
এই অপেক্ষা যে কেবল একপাক্ষিক, তা নয়। নিয়মিত একই জায়গায় মানুষকে দাঁড়াতে দেখে প্রধানমন্ত্রীও এখন তাঁদের চিনে নিয়েছেন। যমুনা ব্যাংকের এটিএম বুথটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে, কাজ হারিয়েছেন পাবনার সেই বৃদ্ধ নিরাপত্তাকর্মীও। তবু ইউনিফর্মটি গায়ে চাপিয়ে, হাতে ধানের শীষ নিয়ে আজও তিনি হাজির হন পুরোনো জায়গায়। প্রিয় মানুষকে একঝলক দেখে একরাশ প্রশান্তি নিয়ে তবেই শুরু হয় তাঁর দিন।
গাড়িবহর এসব পরিচিত মোড়ে পৌঁছালে কমিয়ে দেওয়া হয় গতি। রাতের আঁধারে কামাল আতাতুর্ক রোড কিংবা গুলশান-২ এর গলির মুখে যখন অপেক্ষমাণ মানুষদের ভিড় জমে, প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে গাড়ির ভিতরের আলো জ্বালিয়ে দেন—যেন মানুষগুলো তাঁকে স্পষ্ট দেখতে পায়। চলন্ত গাড়ির কাঁচের ওপার থেকে হাত নাড়েন তিনি, জবাব আসে রাস্তার ধার থেকেও।
কোনো আনুষ্ঠানিক মঞ্চ নেই, নেই মাইকের গর্জন বা করতালির আওয়াজ। মাঝখানে কেবল কয়েক হাতের দূরত্ব আর কয়েক সেকেন্ডের একঝলক দেখা। কথাহীন এই কয়েক মুহূর্তেই যেন বিনিময় হয়ে যায় অনেক না-বলা কথা, যা অদৃশ্য এক সুতোয় বেঁধে ফেলেছে চালকের আসনে থাকা দেশের অভিভাবক আর পথের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষদের।