
গরিব মানুষের স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানির সুব্যবস্থার জন্য নেওয়া হাজার কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থ লোপাটের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ‘মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি’ শীর্ষক বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ অর্থ ইতোমধ্যে খরচ হয়ে গেলেও কাজের অগ্রগতি মাত্র ৪৭ শতাংশ। আর এই নজিরবিহীন অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. তবিবুর রহমান তালুকদার।
আইএমইডির প্রতিবেদনে থলে থেকে বিড়াল সরকারের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)-এর সরেজমিন পরিদর্শনে উঠে এসেছে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার ভয়াবহ চিত্র:
অকার্যকর পাবলিক টয়লেট: পরিদর্শন করা ৪৭টি পাবলিক টয়লেটের মধ্যে ৩৮টিই (প্রায় ৮১%) পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের উপযোগী কোনো ব্যবস্থা সেখানে নেই।
অনুপযোগী ল্যাট্রিন ও হ্যান্ডওয়াশ স্টেশন: পরিদর্শিত ১২২টি ল্যাট্রিনের একটিও নির্ধারিত কারিগরি মান বা স্পেসিফিকেশন মেনে তৈরি করা হয়নি। এছাড়া ৩৬টি হাত ধোয়ার স্টেশনের ৭০ শতাংশই ভাঙাচোরা এবং পানিতে অতিরিক্ত আয়রন থাকায় ব্যবহারে অযোগ্য।
কমিউনিটি ক্লিনিকের বেহাল দশা: হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে নির্মিত ১৯টি টয়লেটের মধ্যে ১৭টিই (৮৯.৪৭%) ব্যবহারের অনুপযোগী।
প্রভাব ও হুমকির অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, একক স্বাক্ষরে চেক ও বিল পাস করার ক্ষমতার সুযোগ নিয়ে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দিয়ে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন পিডি তবিবুর রহমান। দুর্নীতির প্রমাণ পেয়ে ইতিপূর্বে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও বিপুল অর্থের বিনিময়ে পুনরায় একই চেয়ারে বসেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনিয়মের বিষয়ে সাংবাদিকরা যোগাযোগ করলে কোনো রকম তোয়াক্কা না করে উল্টো প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার ও তার প্রতিনিধির বিরুদ্ধে।
পাহাড়সম অবৈধ সম্পদ বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সদস্য ও বিতর্কিত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, সিরাজগঞ্জে বহুতল ভবন, রাজধানীর ধানমন্ডিতে একাধিক বাণিজ্যিক ফ্লোর ও ফ্ল্যাট এবং দেশের বাইরে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অঢেল সম্পত্তির মালিক তিনি। বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার এসব অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান চালাচ্ছে।
আইএমইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, কোনো রকম পূর্ব সমীক্ষা ছাড়া এবং দুর্বল তদারকির কারণে এই বিপুল পরিমাণ সরকারি ও বৈদেশিক অনুদানের অর্থ পানিতে ভেসে গেছে। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল।