
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কানাডা। অটোয়া জানিয়েছে, এ উদ্দেশ্য অর্জনে তারা যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মিত্রদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ এবং অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন জানান, তেহরানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপ বজায় রাখতে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট ‘জি-সেভেন’ (G7) এবং অন্যান্য পশ্চিমা পরাশক্তিগুলোর সাথে সমন্বিত পদক্ষেপ নিচ্ছে অটোয়া।
বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে মুক্ত ও নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের গৃহীত সামরিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় কানাডার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। পাশাপাশি, ওয়াশিংটন ঘোষিত ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর আওতায় ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত বিদ্যমান ও নতুন অর্থনৈতিক অবরোধ বজায় রাখার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে জাস্টিন ট্রুডোর সরকার।
কানাডীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, ২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের প্রায় ৪৯২ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংস্থার ওপর দফায় দফায় অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তেহরান তাদের অবস্থান পরিবর্তন না করলে মিত্রদের সাথে আলোচনা করে এই চাপ আরও বৃদ্ধি করা হতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে।
একই সাথে, ইরান গোপনে অবৈধ পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচী পরিচালনা করছে বলেও অভিযোগ তুলেছে কানাডা। তবে তেহরান এই অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করে আসছে। ইরান কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের পারমাণবিক শক্তি অর্জনের মূল লক্ষ্য পুরোটাই বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের জন্য নিবেদিত।