দীর্ঘ আলোচনার পরও বহুল আলোচিত ‘ওয়ার্ল্ড ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ’ আয়োজন থেকে পিছু হটতে বাধ্য হলো বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। মূলত ভারত, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) কঠোর আপত্তির মুখেই এই পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে তারা। ফলে অন্তত ২০৩১ সাল পর্যন্ত এই টুর্নামেন্টসহ অন্য কোনো বহুপাক্ষিক ইভেন্ট চালু করার কোনো সম্ভাবনা নেই।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইসিবি প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গোল্ডের প্রস্তাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথা বলা হয়েছিল—যা অনেকটা বিলুপ্ত ‘চ্যাম্পিয়নস লিগ টি-টোয়েন্টি’র রূপরেখায় তৈরি। এতে আইপিএল (IPL), পিএসএল (PSL), বিবিএল (BBL), এসএ২০ (SA20) এবং 'দ্য হান্ড্রেড'-এর মতো শীর্ষ সারির ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগগুলোর চ্যাম্পিয়ন দলগুলোর অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
আইসিসি ও অন্যান্য সদস্য দেশের মধ্যে এটি নিয়ে কয়েক মাস ধরে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। সম্প্রতি দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত আইসিসির অপারেশনস সভায় স্পষ্ট করা হয়, ২০২৭ থেকে ২০৩১ মেয়াদের ‘ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম’ (এফটিপি) ইতিমধ্যেই 'বিগ থ্রি' চূড়ান্ত করে ফেলেছে। ফলে এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন কোনো ইভেন্ট বা টুর্নামেন্টের জন্য ফাঁকা সময় (উইন্ডো) বের করা অসম্ভব।
নতুন প্রস্তাবনা ও দ্বিপাক্ষিক সিরিজ
ক্রিকেটের বৈশ্বিক প্রসার এবং আয়ের নতুন পথ তৈরিতে আইসিসি 'ওয়ার্ল্ড ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ'-এর পাশাপাশি চার দেশের টি-টোয়েন্টি ‘কোয়াড্রাঙ্গুলার সিরিজ’ চালুরও প্রস্তাব দিয়েছিল। ছোট দেশগুলো এ বিষয়ে বেশ উৎসাহ দেখালেও 'বিগ থ্রি'-র অনাগ্রহে তা আটকে গেছে।
তবে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের বিকল্প হিসেবে চার দেশের টুর্নামেন্ট বা ত্রি-দেশীয় সিরিজের জনপ্রিয়তা ফেরানোর চেষ্টা চলছে। যেমন—পাকিস্তানের মাটিতে ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে একটি ত্রি-দেশীয় সিরিজ আয়োজনের সূচি ইতিমধ্যেই নির্ধারিত হয়েছে।
নতুন কোনো ইভেন্ট না আসলেও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের রূপরেখায় কিছুটা বদল আসতে পারে। অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ১০ থেকে বাড়িয়ে ১২ করার একটি পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের মতো দলগুলো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার সুযোগ পাবে। তবে শীর্ষ বোর্ডগুলো এখনও এটি চূড়ান্ত করেনি।
নতুন আয়োজনের মাধ্যমে আইসিসি নিজেদের আয় বাড়াতে চাইলেও এতে 'বিগ থ্রি'-র সাথে তাদের অর্থনৈতিক ও নীতিগত মতপার্থক্য তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) একা বিশ্ব ক্রিকেটের মোট আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ জোগান দেয়। ফলে তাদের মতামত ও অবস্থানকে পাশ কাটিয়ে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া আইসিসির জন্য বাস্তবে বেশ কঠিন।