রাজধানী ঢাকার প্রকৃত জনসংখ্যা কত—তা নিয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. রিয়াজুল ইসলাম। এই অনিশ্চিত জনমিতি নিয়ে একটি কার্যকর নগর পরিকল্পনা প্রণয়ন কতটুকু সম্ভব, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বনানীর হোটেল শেরাটনে আয়োজিত ‘স্মার্ট সিটি কনক্লেভ ২০২৬’-এ সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, “ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) এলাকার আয়তন ও নাগরিক সুবিধার তথ্য আমাদের জানা থাকলেও প্রকৃত জনসংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। কেউ বলেন দুই কোটি, আবার কারও মতে তিন কোটি। প্রশ্ন হলো—এত বিশাল জনগোষ্ঠীর কতটুকু পর্যন্ত আমরা এখানে ধারণ বা অ্যালাউ করতে পারবো? মূলত কাদের কেন্দ্র করে আমরা এই নগরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজাবো?”
তিনি সতর্ক করে বলেন, শহরের জনসংখ্যা ও অভিবাসন প্রবাহকে বিবেচনায় না নিয়ে পরিকল্পনা করলে ঢাকার ওপর চাপ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাবে। একটি টেকসই শহর গড়ে তুলতে কত মানুষকে কেন্দ্র করে ঢাকা পরিচালনা ও রূপরেখা প্রণয়ন করা হবে, সেটির একটি বাস্তবভিত্তিক ও স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি।
নগর পরিকল্পনায় বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “সংকট সমাধানে মূল বাধা খণ্ডখণ্ড ব্যবস্থাপনা। আবাসন, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, পয়ঃনিষ্কাশন ও গণপরিবহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলো আলাদা আলাদা কর্তৃপক্ষের অধীন। এদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ না থাকলে ঢাকার সার্বিক নাগরিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।”
নির্মাণে দেশীয় সক্ষমতা: আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) সভাপতি এবং ক্রাউন সিমেন্ট ও জিপিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং গ্লাস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (জিএমইএবি) সভাপতি ও নাসির সিনট্যাক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম বিশ্বাস।
স্মার্ট-সবুজ আবাসন ও অর্থায়ন: বক্তব্য রাখেন স্পেসজিরো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ, ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও নাসিমুল বাতেন এবং এবিসি রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্রাবণী দত্ত।
আবাসন, নির্মাণ ও টেকসই নগরায়ণ: আলোচনা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইশতিয়াক আহমেদ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান।
কনক্লেভে দেশের আবাসন, নির্মাণ, জ্বালানি ও নগর উন্নয়ন খাতের নীতিনির্ধারক, প্রকৌশলী, বিশেষজ্ঞ এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।