বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) এ এইচ এম ফরহাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চলছে । সংশ্লিষ্ট অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পরও তাঁর বিরুদ্ধে পুরোনো অভিযোগ সামনে এনে অপপ্রচার অব্যাহত রাখা হয়েছে।
দুদকে করা মামলাটি ২০০৮ সালে ওয়ান ইলেভেনের সময় টাকসফোরস কতৃক দায়েরকৃত। কতৃপক্ষ উক্ত মামলার বিপরীতে মামলা করলে মহামান্য হাইকোর্ট মামলা হতে অব্যহতি দেয়। সে আলোকে কর্তৃপক্ষ পদোন্নতি দেয়।
তাঁর অভিযোগ, একটি কুচক্রী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ প্রচার করছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত বাংলাদেশ রিজিওনাল ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট-১ (বিআরডব্লিউটিপি-১)-এ আর্থিক অনিয়ম এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের দাবি। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা, সংশ্লিষ্ট তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এবং মামলার বর্তমান অবস্থা যথাযথভাবে যাচাই না করেই এসব তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে তাঁর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন
বিআরডব্লিউটিপি-১ প্রকল্পে উপপ্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ফরহাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম ও চুক্তি ব্যবস্থাপনায় অসংগতির অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত বিল প্রদান, দরপত্র মূল্যায়ন এবং ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্তির মতো বিষয় রয়েছে।
তবে ফরহাদুজ্জামানের দাবি, বিশ্বব্যাংক ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অনুসন্ধানে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচারিত অভিযোগগুলোর সমর্থনে অনিয়ম পাওয়া যায়নি। তাঁদের মতে, অনুসন্ধানের ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট নথি বিবেচনায় না নিয়ে তাঁকে প্রকল্পের কথিত অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
জমি ও সম্পদ নিয়ে প্রচারিত তথ্যের বিভ্রান্তি
ফরহাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে রাজধানীর মিরপুরে জমি, পূর্বাচলে প্লট এবং তাঁর পরিবারের নামে বিপুল সম্পদের মালিকানা নিয়ে যে অভিযোগ প্রচারিত হয়েছে, সেগুলোরও মিথ্যা।
তাঁর দাবি, মিরপুরে ফরহাদুজ্জামানের কোনো জমি নেই এবং পূর্বাচলেও তাঁর নামে কোনো প্লট নেই। তাঁর স্ত্রীর নামে লালমনিরহাটে প্রায় ৪০০ শতক জমি থাকার যে তথ্য প্রচারিত হয়েছে, সেই জমি তাঁর স্ত্রীর পৈতৃক সূত্রে পাওয়া। ফলে সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা ও অর্জনের উৎস যাচাই না করে এসব সম্পদকে তাঁর অবৈধ সম্পদ হিসেবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর বলে তাঁদের বক্তব্য।
পুরোনো অভিযোগ সামনে এনে হয়রানির অভিযোগ
ফরহাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী মামলার চার্জশিটের তথ্যও নতুন করে সামনে আনা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে কী আইনগত বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা উল্লেখ না করে শুধু পুরোনো অভিযোগ প্রচার করা হলে পাঠকের কাছে অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি হতে পারে।
নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার দাবি
ফরহাদুজ্জামানের দাবি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ মূল্যায়ন এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তদন্ত ও নথিপত্রের ভিত্তিতে প্রকাশ করা উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগের বিপরীতে তাঁর বক্তব্য, তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এবং পরবর্তী আইনগত অবস্থাও পাঠকের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।