কুমিল্লা জেলা পরিষদের অধীন লাকসামের মুদাফফরগঞ্জ বাজার জেলা পরিষদ মার্কেটের দোকান বরাদ্দ, লিজ, নির্মাণ ব্যয় ও অর্থ লেনদেনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের জটিলতা দেখা দিয়েছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দোকানমালিকদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এনামুল হক বশিরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এনামুল হক বশির ২০০2 সালে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি দীর্ঘ সময় একই জেলা পরিষদে কর্মরত ছিলেন। মাঝখানে দেবিদ্বারের একটি পুকুরসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের কারণে তাঁকে আট মাসের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদে বদলি করা হয়েছিল। পরে বিভিন্ন জায়গায় অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে তিনি আবার কুমিল্লা জেলা পরিষদে ফিরে আসেন। কুমিল্লায় ফিরে জেলা পরিষদের অধীন বিভিন্ন মার্কেট থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি প্রভাবশালী অবস্থানে ছিলেন এবং পরবর্তীতে নিজেকে বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে জেলা পরিষদে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এনামুল হক বশির তার স্ত্রীর নামে একটি দোকান বরাদ্দ নেন,যা জেলা পরিষদ আইনের নীতি পরিপন্থী। আইন অনুযায়ী জেলা পরিষদের কোন কর্মকর্তা তাদের আত্মীয়-স্বজন ও নিজের নামে কোন দোকান বরাদ্দ নিতে পারেন না। কিন্তু তিনি আইনের তোয়াক্কা না করে নিজের স্ত্রীর নামে একটি দোকান বরাদ্দ নেন।
এই মার্কেটের কার্যক্রম যখন শুরু হয় ২০০৩ সালে, তখন অধিকাংশ দোকান বরাদ্দ নেন বিএনপিপন্থী নেতাকর্মীরা, এখন এই প্রশাসনিক কর্মকর্তার অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার কারণে এলাকায় সামাজিক একটি বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
এই প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিজেকে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতার ভাই পরিচয় দিয়ে জেলা পরিষদে একক আধিপত্য নিয়ে একটি বলয় তৈরি করছেন। জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার জহিরুল আলম এর মাধ্যমে বিভিন্ন দোকান মালিক কে হুমকি দিচ্ছেন যদি দোকান খালি করে না দেন, তাহলে ওই দোকান লুটপাট ও ভাঙচুরের ব্যবস্থা করবেন। জেলা পরিষদের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকলে জেলা পরিষদের কর্মকাণ্ডে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।