আওয়ামী লীগ আমলের আইএমএফের শর্তযুক্ত ঋণ চুক্তি বাতিলের কথা বললেও, নতুন দফার ঋণ ও সংস্কার আলোচনা নিয়ে কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, নতুন ঋণের ক্ষেত্রে আইএমএফের শর্ত আসবে এবং তা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা হবে।
এর আগে গত ৪ আগস্ট ঢাকার এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, আইএমএফের শর্তগুলো তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় এবং সংস্থাটির ঋণ কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। এমনকি বাংলাদেশ আর কোনো শর্ত মানবে না বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
তবে এর মাত্র ১১ দিন পর ব্যাংককে আইএমএফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠকের পর সুর বদলান মন্ত্রী। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “শর্ত তো থাকবে। শর্ত পূরণ হবে। আবার কিছু কিছু দুই পক্ষ থেকে আমরা সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। সেগুলো কোনো সমস্যা না।”
অর্থমন্ত্রী জানান, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের মতো বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে পার্টনারশিপ বা অংশীদারত্ব বজায় রেখেই দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া হবে। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাত ও কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংস্থাটির কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে, যার বেশিরভাগের সঙ্গেই সরকার একমত পোষণ করেছে। অনেক সমস্যার সমাধান ইতিমধ্যে হয়ে গেছে এবং বাকিগুলো আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতি টালমাটাল থাকলেও বাংলাদেশের সার্বিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সরকারের সংস্কার কৌশল বা 'ক্রেডিবল স্ট্র্যাটেজি'র ওপর আস্থার কারণেই এই আলোচনা বহুদূর এগিয়েছে বলে উল্লেখ করেন আমির খসরু।