অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবে শুভেচ্ছা ও অংশগ্রহণ নিয়ে ইসলামের বিধান: ফতোয়ায় যা বলা হয়েছে
অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো, তাদের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কিংবা উপহার বিনিময়ের মতো বিষয়গুলো নিয়ে ইসলামে কী বিধান রয়েছে, তা নিয়ে সমাজে নানা আলোচনা রয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি ফতোয়ায় জানানো হয়েছে যে, অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবে শুভেচ্ছা জানানো ও তাদের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ।
২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই ফতোয়ায় পূজায় শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়ে শরিয়তের বিধান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছিল। এর জবাবে জামিয়া ইমাম বুখারী উত্তরার মুফতি ও মুহাদ্দিস মুফতি সাইদুজ্জামান কাসেমি বিশিষ্ট ইসলামী স্কলার ইবনুল কাইয়্যেম ও শায়খ ইবনে উছাইমীনের বক্তব্যের আলোকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।
শুভেচ্ছা জানানো নিষিদ্ধ: খ্রিষ্টানদের বড়দিনসহ অন্যান্য অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবে শুভেচ্ছা জানানোকে হারাম বলা হয়েছে। ইবনুল কাইয়্যেমের গ্রন্থ ‘আহকামু আহলিয যিম্মাহ’-এর বরাত দিয়ে এতে বলা হয়, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে অভিনন্দন জানানো ওই আচারকে সমর্থন করার সমতুল্য হতে পারে।
কোরআনের নির্দেশনা: এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সূরা যুমারের ৭ নম্বর আয়াত (আল্লাহ বান্দার কুফরি পছন্দ করেন না) এবং সূরা মায়েদার ৩ নম্বর আয়াত (ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করা) উদ্ধৃত করা হয়েছে।
শুভেক্ষার জবাব না দেওয়া: অমুসলিমরা তাদের ধর্মীয় উৎসবে মুসলমানদের শুভেচ্ছা জানালে তা প্রতিহত বা জবাব না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ এসব উৎসব মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব নয়।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ও উপহার বিনিময়: অন্য ধর্মের উৎসবের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া, বিশেষ আয়োজন করা, উপহার বিনিময়, মিষ্টান্ন বিতরণ বা উৎসবকেন্দ্রিক ছুটি উদযাপনের মতো কাজ থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাদৃশ্য অর্জনের নিষেধাজ্ঞা: ফতোয়ায় বলা হয়েছে, সরাসরি অংশগ্রহণ শুভেচ্ছা জানানোর চেয়েও গুরুতর। এক্ষেত্রে হাদিসের বাণী—“যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত”—স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয় যে, সামাজিক সম্পর্ক বা সংকোচও এই নিষেধাজ্ঞার বিধান পরিবর্তন করে না।