বাংলাদেশে বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে প্রতিবছর ৫ লাখ ৭০ হাজার ২৬৩ জন মানুষ মারা যান। মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই ঘটছে অসংক্রামক রোগে, যার মধ্যে ১৯ শতাংশই অকাল মৃত্যু। গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এক পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।
আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর বিএমএ ভবনে ‘বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে টেকসই অর্থায়ন: অগ্রগতি, বাধা এবং করণীয়’ শীর্ষক এক সাংবাদিক কর্মশালায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহযোগিতায় এই কর্মশালার আয়োজন করে প্রজ্ঞা। এতে প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের ২৮ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে বাজেট বরাদ্দ খুবই কম। বিশ্ব ব্যাংকের ২০১৯ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ৪.২ শতাংশ অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে ব্যয় করা হয়। এছাড়া এ খাতে মাথাপিছু বরাদ্দের পরিমাণ বছরে মাত্র ০.০৮ ডলার, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ করা ১.৫ ডলারের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘হেলথ অ্যান্ড মরবিডিটি স্ট্যাটাস সার্ভে-২০২৫’ অনুযায়ী, দেশের শীর্ষ ১০টি রোগের তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ। শুধু ২০২৪ সালেই দেশে হৃদ্রোগে প্রায় ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার ৫২ শতাংশের জন্যই দায়ী উচ্চ রক্তচাপ।
বক্তারা জানান, উচ্চ রক্তচাপের প্রকোপ এখন শুধু বয়স্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তরুণদের মাঝেও এটি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ‘বাংলাদেশ এনসিডি স্টেপস সার্ভে, ২০১৮’ এর তথ্যমতে, ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর প্রায় ১২ শতাংশই উচ্চ রক্তচাপের শিকার।
এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক (বিক্রয় ও বিপণন) মো. রিয়াদ আরেফিন বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই বর্ধিত বরাদ্দের একটি অংশ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যয় করা গেলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিনা মূল্যে ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আক্তার মালা বলেন, দেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগে ঘটলেও এই খাতে বাজেট বরাদ্দ মাত্র ৪.২ শতাংশ। এই বৈষম্য দূর করতে এবং বরাদ্দ বাড়াতে গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
জিএইচএআইয়ের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, দেশে সবচেয়ে বেশি মানুষ উচ্চ রক্তচাপের শিকার হচ্ছে, তাই এই রোগ নিয়ন্ত্রণে টেকসই অর্থায়ন জরুরি।
প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরের সভাপতিত্বে কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রোগ্রাম অফিসার সামিহা বিনতে কামাল।