ইসলাম ধর্মে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও মর্যাদায়ক একটি আমল। তবে কোনো ব্যক্তির সামনে প্রিয় নবীর নাম উচ্চারিত হওয়ার পরও যদি তিনি দরুদ পাঠ করা থেকে বিরত থাকেন, তবে তা অত্যন্ত গর্হিত ও ক্ষতিকর বলে হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন হাদিসের আলোকে নবীজির প্রতি দরুদ না পড়ার প্রধান পরিণতিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
ধ্বংস ও অপমান অনিবার্য: এক হাদিসে এসেছে, নবীজি (সা.) মিম্বরে ওঠার সময় তিনবার 'আমিন' বলেছিলেন। এর মধ্যে একটি ছিল সেই ব্যক্তির জন্য ধ্বংস ও অপমান, যার সামনে মহানবী (সা.)-এর নাম উচ্চারিত হয়েছে কিন্তু সে দরুদ পাঠ করেনি (ইবনে হিব্বান)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, এমন ব্যক্তির নাসিকা ধূলায় ধূসরিত বা সে অপমানিত হোক (তিরমিজি)।
সবচেয়ে বড় কৃপণ: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রকৃত কৃপণ সেই ব্যক্তি— যার সামনে নবীজির নাম নেওয়ার পরও সে দরুদ পাঠ করে না (তিরমিজি)।
জান্নাতের পথ থেকে দূরে সরে যাওয়া: দরুদ পাঠ না করা বা ভুলে যাওয়াকে জান্নাতের রাস্তা থেকে দূরে সরে যাওয়ার শামিল বলা হয়েছে। এমনকি কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে, নাম শোনার পরও দরুদ না পড়ে মারা গেলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে এবং আল্লাহর রহমত থেকে দূরে থাকবে (ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান)।
কিয়ামতের ময়দানে আফসোস: কোনো বৈঠকে বসে যদি আল্লাহকে স্মরণ করা না হয় এবং নবীজির প্রতি দরুদ পাঠ না করা হয়, তবে কিয়ামতের দিন সেই অবহেলার কারণে তাদের আফসোস করতে হবে— যদিও তারা শেষ পর্যন্ত পুরস্কারস্বরূপ জান্নাতে প্রবেশ করে (মুস্তাদরেকে হাকেম)।
হতভাগ্য ও লাঞ্ছিত হওয়া: যে ব্যক্তির সামনে নবীজির নাম উচ্চারিত হওয়ার পরও দরুদ পড়া থেকে সে দূরে থাকে, তাকে হাদিসে 'হতভাগ্য' ও 'লাঞ্ছিত' বলে অভিহিত করা হয়েছে (মিশকাত)।