রাজশাহীর জনসভায় দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলটির মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এক বিবৃতিতে বলেছেন, পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দলের আঁতাত এবং অর্থ সরবরাহের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য থাকার দাবি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো ওই বিবৃতিতে মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি সত্য ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এই বক্তব্য দিয়ে থাকেন, তবে দেশবাসীর সামনে তার প্রমাণ তুলে ধরে অবিলম্বে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। কেবল জনসভায় এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে দায়িত্ব শেষ করার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, গোয়েন্দা তথ্য হাতে থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এতদিন ব্যবস্থা নেওয়া হলো না কেন? আর যদি বক্তব্যের কোনো ভিত্তি না থাকে, তবে এমন স্পর্শকাতর অভিযোগ তুলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা কেন করা হচ্ছে—সরকারকে তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।
বিবৃতিতে বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে বলা হয়, গণভোটের রায় অমান্য করা এবং ২৪-পরবর্তী জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করার মাধ্যমে সরকার নিজেই আওয়ামী ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তনের পথ প্রশস্ত করছে। একদিকে স্বৈরাচারের ফিরে আসার আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে, অন্যদিকে তা প্রতিরোধের প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপগুলো উপেক্ষা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক দায় এড়াতে এ ধরনের আঁতাতের অভিযোগ তোলার রাজনীতি সঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে স্বৈরতন্ত্রের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা এবং সাংবিধানিক সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কারের পথ বাদ দিয়ে সরকার উল্টো জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করে তুলছে। সরকারের এই দ্বিমুখী অবস্থানের জবাব দেশবাসীকে দিতে হবে।