যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সোহাগ নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ২১ অক্টোবর (বুধবার) সিআইডির গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ জানান, গ্রেপ্তারকৃত সোহাগ নিজেকে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সহকারী পরিচালক বলে দাবি করেছিলেন। তবে পূজার ছুটির কারণে ওই সময় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় তার এই দাবির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার মূল রহস্য উদঘাটনে তদন্তের একপর্যায়ে সিআইডি এই ঘটনায় সোহাগের সংশ্লিষ্টতা পায়। এরপর তার অবস্থান নিশ্চিত করে রাজৈর থানা-পুলিশের সহযোগিতায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তাকে আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। এ মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের খুঁজে বের করতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে একই মামলায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) অভিযানে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সোহাগের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এ মামলার মোট গ্রেপ্তার সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেল।
উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষার ঠিক আগমুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার তথ্য ছড়িয়ে পড়ে এবং মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে তা হুবহু মিলে যায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অধিদপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেয়।
পরবর্তীতে এ ঘটনায় গত ১১ অক্টোবর রাজধানীর মতিঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৬ অক্টোবর স্থগিত হওয়া ওই পরীক্ষাটি পুনরায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৫ হাজার ৩৮৬ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন।