কক্সবাজারের পেচারদ্বীপ সৈকতে সাগরে গোসলে নেমে নিখোঁজ হওয়া পর্যটকদের মধ্যে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। এ নিয়ে এই মর্মান্তিক ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে। এখনো এক পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে পেচারদ্বীপ সৈকতে মরদেহটি ভেসে আসে। স্বজনদের প্রাথমিক ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ওই পর্যটকের নাম হারুন; যিনি চট্টগ্রামের বাংলাবাজার বায়েজিদ এলাকার বাসিন্দা।
এর আগে গত বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে। কক্সবাজার ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য জানান, বুধবার বিকেল ৫টার দিকে নির্জন পেচারদ্বীপ সৈকতে চট্টগ্রাম থেকে যাওয়া ৫ জন এবং ঢাকা থেকে যাওয়া ৭ জন পর্যটক সাগরে নামেন। এ সময় তাদের মধ্যে একজন সমুদ্রে ভেসে যাওয়ার সময় বাঁচতে চিৎকার শুরু করলে অন্য পর্যটকরা তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন।
উদ্ধারের অংশ হিসেবে তারা একে অপরের হাত ধরে শিকলের মতো মানববলয় তৈরি করেন। কিন্তু হঠাৎ একটি বড় ঢেউ আছড়ে পড়লে তাদের সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। ঢেউয়ের তোড়ে তারা একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পানিতে তলিয়ে যান। ঘটনার পরপরই স্থানীয় জেলে, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত চার পর্যটকের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা হলেন—ঢাকার উত্তরার বাসিন্দা রোহান ও জিশান, এবং চট্টগ্রামের বাংলাবাজার বায়েজিদ এলাকার আকাশ ও হারুন। এছাড়া ঢাকার উত্তরার নিবিড় নামের আরেক পর্যটক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকর্মীদের তৎপরতা অব্যাহত আছে।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকালে সৈকত থেকে উদ্ধার করা মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। জনপ্রিয় এই পর্যটন কেন্দ্রে বারবার এমন দুর্ঘটনা রোধে পর্যটকদের আরও সতর্ক হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা।