চলতি বছর ২০২৬ সালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি দেশের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ মাসে (বিশেষ করে জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বর্ষাকাল ও পরবর্তী সময়ে) ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডে আক্রান্ত হয়ে ১ লাখ ১৫ হাজার ৬১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৩৫৭ জন।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি ছিল। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের হার সবচেয়ে বেশি। পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, আক্রান্তের ক্ষেত্রে পুরুষের হার বেশি হলেও মৃত্যুর ক্ষেত্রে নারী ও শিশুদের ঝুঁকি ও হার তুলনামূলক বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গুর বর্তমান পরিস্থিতিতে সামান্য অবহেলাও বড় ধরণের বিপদ ডেকে আনতে পারে। এ বিষয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাঃ জিহাদুল ইসলাম নোমান (এমবিবিএস, বিসিএস-স্বাস্থ্য, পিজিটি, স্পেশাল ট্রেইন্ড ইন ইএনটি) ডেঙ্গু জ্বরের ক্রিটিক্যাল ফেইজ বা বিপদচিহ্ন এবং করণীয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।
'জ্বর' কমে যাওয়ার সময়টিই ডেঙ্গুর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় (Afebrile Phase) ডাঃ জিহাদুল ইসলাম নোমান জানান, ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে জ্বর কমে যাওয়ার সময়টিই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এ সময় রোগীদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।
ডেঙ্গুর বিপদচিহ্নসমূহ:
তীব্র পেটব্যথা
বারবার বমি হওয়া
মাড়ি দিয়ে রক্তপাত বা নিস্তেজ ভাব দেখা দেওয়া
চিকিৎসকের পরামর্শ ও করণীয়:
তরল খাবার ও পরীক্ষা: এ সময়ে পর্যাপ্ত ওরস্যালাইন ও তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে এবং নিয়মিত সিবিসি (CBC) টেস্ট করা আবশ্যক।
ঔষধ বর্জন: ডেঙ্গু জ্বরে এসপিরিন বা ব্যথানাশকজাতীয় ওষুধ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধু চিকিৎসালয় নয়, প্রয়োজন পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা। স্বাস্থ্য সচেতন হোন, নিজে এবং পরিবারকে সুস্থ রাখতে মানবিক হোন এবং যেকোনো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত সুচিকিৎসা গ্রহণ করুন।