বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে আগামী ২০২৬ থেকে ২০৩১ মেয়াদে জাপানের সঙ্গে ১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা করতে চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব সুদৃঢ় করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরিবহন ও নগর যোগাযোগ: ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার।
মাতারবাড়ীসহ সমন্বিত শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র: ৩ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার।
উৎপাদন ও ইলেকট্রনিকস খাত: ১ দশমিক ১৫ (বা ১ দশমিক ৫৭) বিলিয়ন ডলার।
জ্বালানি ও সবুজ রূপান্তর: ১ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার।
জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো: ৯৪০ মিলিয়ন ডলার।
কৃষি, ওষুধশিল্প, আইসিটি, ব্লু ইকোনমি, পর্যটন ও এসএমই খাত: ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার।
এ ছাড়া প্রস্তাবিত এই প্যাকেজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় বা 'বিআইজি-বি' (BIG-B) উদ্যোগের আওতাভুক্ত রয়েছে।
প্রথম দিন (সোমবার): টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাবেন জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা। সফরের প্রথম দিনই তিনি জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের সভাপতি তারো আসো, জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকা এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সন্ধ্যায় নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের যৌথ নৈশভোজে অংশ নেবেন।
দ্বিতীয় দিন (২৭ অক্টোবর): জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় হ্রাস এবং সুদের হার কমানোর মতো বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে। একই দিনে চিপা প্রিফেকচারের জেরা এলএনজি টার্মিনাল এবং নিৎসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে।
তৃতীয় দিন (২৮ অক্টোবর): জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের গভর্নর, ইউনিক্লোর শীর্ষ কর্মকর্তা, জেট্রো এবং মিৎসুই ও সুমিতোমোর মতো শীর্ষ জাপানি কোম্পানির প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেলে জেট্রো ভবনে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন এবং সন্ধ্যায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে কমিউনিটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
শেষ দিন (২৯ অক্টোবর): বুলেট ট্রেনে (শিনকানসেন) টোকিও থেকে নাগোয়া সফর করবেন এবং সেখানে টয়োটা মোটর করপোরেশনের কারখানা ও প্রযুক্তি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। এরপর নাগোয়া থেকে সরাসরি নারিতা বিমানবন্দর হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সফরকালে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বেসামরিক বিমান পরিবহন এবং সামুদ্রিক পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ে প্রায় আটটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে, যার মধ্যে ৩ থেকে ৪টি স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক ও মন্ত্রিপরিষদের বেশ কয়েকজন সদস্য সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।