ক্রিকেটে নিজের পছন্দের পজিশন ৩ নম্বর হলেও দলের প্রয়োজনে ৬ কিংবা ৭ নম্বরে নেমে ফিনিশারের ভূমিকাকেই নিজের শক্তিতে পরিণত করেছেন তিলক বর্মা। শুধু ভারতের জার্সিতেই নয়, স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতেও দলের চাহিদা মিটিয়ে এই পজিশনে দারুণ সফল তিনি।
সম্প্রতি ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আরও একবার তার এই চাপের মুখে ধৈর্যের পরিচয় মিলল। ১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১১তম ওভারে যখন ক্রিজে নামেন তিলক, ভারতের সংগ্রহ তখন মাত্র ৬৯ রান, হারিয়ে গেছে ৪ উইকেট। উইকেটের গতি মন্থর থাকায় বল ব্যাটে ঠিকমতো আসছিল না। এমন পরিস্থিতিতে শুরুতে একটু সময় নিয়ে ২৬ বলে অপরাজিত ৫১ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। ১ বল হাতে রেখেই দলকে এনে দেন কাঙ্ক্ষিত জয়। ভারতের হয়ে সফল রান তাড়ায় ৬ বা এর নিচে নেমে ফিফটি করার রেকর্ড এটিই প্রথম।
শতভাগ জয়ের অনন্য বিশ্বরেকর্ড
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রান তাড়া করতে নেমে অপরাজিত থাকার এক অভাবনীয় রেকর্ডের শীর্ষে অবস্থান করছেন তিলক। রান তাড়ায় তিনি যতবার অপরাজিত থেকেছেন (২৬ বার), প্রতিবারই জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তাঁর দল। ছেলেদের টি-টোয়েন্টিতে রান তাড়ায় অপরাজিত থেকে শতভাগ জয়ের এই রেকর্ডে তিনি পেছনে ফেলেছেন ২৩ ইনিংস নিয়ে থাকা নিউজিল্যান্ডের মার্টিন গাপটিলকে (ইংল্যান্ডের জেমস ভিন্স ৩১ বার অপরাজিত থেকেও একটি ম্যাচ পণ্ড হওয়ায় এই রেকর্ডে জায়গা পাননি)।
কোচদের আস্থাই ছিল বড় প্রেরণা
মিচেল স্যান্টনারের দুর্দান্ত বোলিংয়ের মুখে ১১২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে যখন পরাজয়ের শঙ্কা চেপে বসেছিল, তখন তিলকের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন কোচরা। ম্যাচ শেষে তিলক জানান, প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর ও ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোটাক তাঁকে বলেছিলেন, পুরো ভারত তাঁর ওপর বিশ্বাস রাখে। শেষ পর্যন্ত উইকেটে টিকে থাকতে পারলে দল জিতবে—কোচদের এই আস্থাকে পুঁজি করেই শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন এই তরুণ ব্যাটার।