ভিকটিম খাদিজা আক্তার (২১) এবং প্রধান অভিযুক্ত আবির হোসেন (১৯) চৌদ্দগ্রাম থানাধীন কনকাপৈত ইউনিয়নের কালকট গ্রামের পাশাপাশি বাড়ির বাসিন্দা। ভিকটিমের সাথে প্রেমের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত আবির হোসেন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। এর ফলে খাদিজা আক্তার গর্ভবতী হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে ভিকটিমের পরিবার বিষয়টি আবিরের পরিবারকে জানালে আবিরের মা জোবেদা আক্তার সানজিদা (৩৫), চাচা নজরুল ইসলাম মনির (৪৮) এবং অত্র গ্রামের মাতব্বর হাজী মোস্তফা মোল্লা পরবর্তীতে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
গত ২৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে চৌদ্দগ্রাম থানার 'প্রাইম' নামক একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভিকটিম খাদিজা আক্তার একটি ছেলে সন্তান প্রসব করেন। এরপর নবজাতকের পিতৃপরিচয় গোপনের হীন উদ্দেশ্যে অভিযুক্ত ৪ জনের প্ররোচনায় অসৎ উপায়ে স্বপ্না বেগম (৪৮), কাজী বাছির, মো: নাজিম উদ্দীন এবং রিপন এর যোগসাজশে সদ্যজাত শিশুটিকে একশত টাকার নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে ১,৫০,০০০/- টাকার বিনিময়ে অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়।
ঘটনাটি কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপারের দৃষ্টিগোচরে আসে। পুলিশ সুপারের তাৎক্ষণিক ও কঠোর নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা ও চৌদ্দগ্রাম থানার পুলিশ দ্রুত অভিযানে নামে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাত্র ৪ ঘণ্টার ব্যবধানে অপহৃত নবজাতকটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি হীন অপরাধের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত জোবেদা আক্তার সানজিদা (৩৫), নজরুল ইসলাম মনির (৪৮), স্বপ্না বেগম (৪২), রিপন (৩৮) আসামিগণকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। সেই সাথে চুক্তিপত্রটি উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০১২ এবং মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।