বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলার লক্ষ্মীপুর মৌজায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জমিতে গাছ রোপণের অভিযোগ উঠেছে মামলার বাদী মোছা. রওশন আরা বেগম ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন প্রতিপক্ষ।
স্থানীয় বাসিন্দা বাদশা প্রধান বলেন, জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তাঁর দাবি, এমদাদুল ও মাহাবুবুল প্রথমে জমিটি ক্রয় করেন। পূর্ববর্তী মালিকরা প্রকৃত মালিকানার তুলনায় বেশি জমি বিক্রি করে থাকলে সেখান থেকেই বিরোধের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, “এ নিয়ে গ্রামে একাধিকবার সালিশ হয়েছে। বাদীপক্ষ যাঁদের কাছ থেকে জমি কিনেছে, তাঁরা নিজেদের অংশের চেয়েও বেশি জমি বিক্রি করেছেন বলে আমরা জানি।”
আদালতের নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ
প্রতিপক্ষের দাবি, শিবগঞ্জ সিভিল জজ আদালতে চলমান মোকদ্দমা নং-২৮৭/২০২৩-এর পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশনা রয়েছে। এ বিষয়ে মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) জাহিদুল ইসলাম উভয় পক্ষকে নোটিশ দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান বলেও জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর মৌজার ২৩ দশমিক ২৫ শতক জমির মধ্যে চার শতক জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধ চলছে। জমির তফসিলে জে.এল. নম্বর ২১২, সি.এস. খতিয়ান নম্বর ৮৭ ও ৮৫, এমআর খতিয়ান নম্বর ১০২, আরএস খতিয়ান নম্বর ৩৮১ এবং দাগ নম্বর ১৯৩ ও ১৯৪/৫৪ উল্লেখ রয়েছে।
প্রতিপক্ষ পিন্টুর অভিযোগ, আদালতে মামলা চলমান থাকা এবং পুলিশের নোটিশের পরও বিরোধপূর্ণ জমিতে গাছ রোপণ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট দাগে তাঁদের ২৩ শতকের বেশি জমি রয়েছে এবং বিরোধপূর্ণ চার শতক জমি ওই জমির অন্তর্ভুক্ত। তাঁর আরও অভিযোগ উক্ত দাগের জমি ৪৮ শতাংশ এবং জমির মন মালিকের থেকে এবং তার সন্তানদের থেকে ক্রয় করেছে ৮ থেকে ৯ জন ক্রেতা। তাছাড়াও তার দুই মেয়েও এই ৪৮ শতাংশ জমির ভেতরে ভোগ দখল করে আসিতেছে অথচ তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সব মালিক ও তাঁদের দখলসংক্রান্ত তথ্য মামলায় যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। আর প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে আমাদের উপর হয়রানি মুলকভাবে মামলা দায়ের করেছে। আমরা চাই সুষ্ঠু ও তদন্তের মাধ্যমে মহামান্য আদালত এর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এটা আমরা আশা করি।
পিন্টু বলেন, “আমরা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আগামী ২৯ তারিখে মামলার পরবর্তী তারিখ রয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা উচিত ছিল। আমরা চাই, জমির দলিল, মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।”
গাছ রোপণ নিয়ে হুমকির অভিযোগ
পিন্টুর অভিযোগ, বিরোধপূর্ণ জমিতে গাছ রোপণের বিষয়ে জানতে চাইলে রওশন আরা বেগম তাঁকে আদালতে যাওয়ার কথা বলেন এবং আরও মামলা দেওয়ার হুমকি দেন। এ ঘটনাসংশ্লিষ্ট কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে তিনি জানান। তাঁর দাবি, ভিডিওগুলোর সত্যতা ও সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে মামলার বাদী মোছা. রওশন আরা বেগমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি মামলার কাগজপত্র ভালোভাবে দেখার পরামর্শ দেন। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তিনি বিস্তারিত বক্তব্য দেননি।
প্রতিপক্ষের দাবি, জমির মালিকানা, দখল এবং আদালতের নির্দেশনার বিষয়টি যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে উভয় পক্ষের আইন মেনে চলা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।