শুধু গালভরা স্লোগান দিয়ে বৈষম্যহীন সমাজ গঠন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, সমাজে প্রকৃত সাম্য, ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ইসলামের সুমহান আদর্শ ও ন্যায়বিচার কায়েম হলেই কেবল মানুষ তার সুফল ভোগ করতে পারবে এবং ইসলামকে বিজয়ী করার মাধ্যমেই একটি বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণ করা সম্ভব।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে মালয়েশিয়ার কেলাংয়ের লেমবাগা গেটওয়ে আসলি হলরুমে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মালয়েশিয়া শাখা আয়োজিত এক বিশাল সিরাত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নবীজির জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ২৩ বছরের নবুয়তি জীবনের অন্যতম শিক্ষা হলো দাওয়াতের পাশাপাশি সমাজেসত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। মক্কায় দীর্ঘ ১৩ বছর নির্যাতন সহ্য করেও তিনি যেমন দাওয়াতের কাজ চালিয়ে গেছেন, তেমনি মদিনায় ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের মৌলিক অধিকার, মর্যাদা ও পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।
পৃথিবী থেকে সব ধরনের জুলুম ও অবিচার দূর করা নবী-রাসুলদের আগমনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘যেখানেই অন্যায় ও বৈষম্য মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে, সেখানেই তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রত্যাশায় দেশের বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, অসংখ্য পরিবার তাদের সন্তান হারিয়েছে। শহীদদের সেই ত্যাগের মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নে কেবল স্লোগান যথেষ্ট নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি পুরোপুরি ন্যায়বিচার ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা।
ঐতিহাসিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, হাজি শরীয়তুল্লাহ, তিতুমীর ও মাওলানা কারামত আলী জৌনপুরী (রহ.)-এর মতো মহান ব্যক্তিরা অতীতে অন্যায় ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। সেই ঐতিহাসিক ধারায় একটি ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়তে সবাইকে আজ ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
জাতীয় অর্থনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা তুলে ধরে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় অগ্রগতিতে প্রবাসীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এমনকি ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময়ও প্রবাসীরা অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছিলেন। প্রবাসীদের এই সংগঠিত শক্তি দেশের যেকোনো ইতিবাচক পরিবর্তনে বড় ধরনের প্রভাব রাখতে পারে।
এ সময় তিনি মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সংগঠনের নিয়মতান্ত্রিক কার্যক্রমে যুক্ত হয়ে দেশ ও প্রবাসে সাংগঠনিক ভীত আরও মজবুত করতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসার তাগিদ দেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মালয়েশিয়া শাখার সভাপতি মুফতি তাকী উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাবিবুর রহমান কাউসারের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ ফয়সল। সম্মেলনে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন প্রদেশ থেকে আসা বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন।