২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনসহ সারাদেশে সংঘটিত লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ১৯ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্মারক বিবৃতি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (২৬ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এই বিবৃতিতে তিনি ওই ঘটনাকে ‘পূর্বপরিকল্পিত মানবতাবিরোধী গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে জড়িতদের বিচার দাবি করেন।
সন্ত্রাসী তাণ্ডব ও হামলা: ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০০৬ সালে চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষে তৎকালীন বিরোধী জোট পূর্বপরিকল্পিতভাবে লগি-বৈঠার তাণ্ডব চালায়। বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে জামায়াতে ইসলামীর নির্ধারিত শান্তিপূর্ণ জনসভাকে পণ্ড করতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এই হামলা চালানো হয়।
লাশের ওপর নৃত্য: তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী সন্ত্রাসীরা মানুষ হত্যা করে লাশের ওপর নৃত্য করে বর্বর আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠেছিল, যা বিশ্ব গণমাধ্যমে তীব্রভাবে নিন্দিত হয়েছিল।
অধিকার হরণ ও ফ্যাসিবাদের সূচনা: এই ঘটনাকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কজনক অধ্যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেদিন থেকেই দেশে সন্ত্রাসী রাজনীতির সূচনা হয় এবং জনগণের গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
মামলা প্রত্যাহার ও বর্তমান প্রত্যাশা: তৎকালীন সরকার খুনিদের বাঁচাতে মামলা প্রত্যাহার করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন প্রেক্ষাপটে অবিলম্বে ২৮ অক্টোবরের খুনিদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা পুনরায় সচল করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতিতে তিনি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী নেতাকর্মীদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
জামায়াতের দুই দিনের ঘোষিত কর্মসূচি:
২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত দুর্বৃত্তদের বিচারের দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নিম্নোক্ত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে:
২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার): ঢাকা মহানগরীতে বিশেষ আলোচনা সভা (প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আমিরে জামায়াত)।
২৮ অক্টোবর (বুধবার): সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।