কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মঙ্গলবার এ চার্জশিট দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান সাংবাদিকদের কাছে চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অভিযুক্ত পাঁচজন বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন। তাঁরা হলেন—মো. সোহাগ (৩৪), ইসমাইল হোসেন জনি (২৮), এমরান হোসেন ওরফে হৃদয় (৩৪), রাহাত হোসেন জুয়েল (২৭) এবং মো. সুজন (৩২)। এর মধ্যে জনি, জুয়েল ও সুজনের স্থায়ী ঠিকানা তদন্তে শনাক্ত না হওয়ায় চার্জশিটে তাঁদের ‘ভাসমান’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহত বুলেট বৈরাগী (৩৫) কুমিল্লার বিবির বাজার স্থলবন্দরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা এবং বিসিএস নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ছিলেন। তাঁর বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামে। তিনি চাকরির সুবাদে পরিবার নিয়ে কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জের পানপট্টি এলাকায় বসবাস করতেন।
পুলিশ জানায়, গত ২৪ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রামের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমি থেকে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে বাসে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হন বুলেট বৈরাগী। গভীর রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার ঝাগুরজুলি এলাকায় বাস থেকে নামার পর তিনি ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। পরদিন ২৫ এপ্রিল সকালে সদর দক্ষিণ উপজেলার বাতাবাড়িয়া এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনের কাছ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শনাক্ত করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আলম শাহ জানান, চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পথে ছিনতাইকারীরা টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রীবেশে বুলেট বৈরাগীর সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। পরে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাঁকে অটোরিকশা থেকে ফেলে দেওয়া হলে মাথায় আঘাত পেয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা লিলিমা বৈরাগী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছিলেন। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব আসামিদের গ্রেপ্তার করে এবং তাঁরা আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
কুমিল্লার আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. সাদেকুর রহমান জানান, ডিবি পুলিশ চার্জশিট দাখিল করার পর আদালত তা গ্রহণ করেছেন এবং বিচারের জন্য মামলাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠিয়েছেন।