ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক পালাবদল এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ দিন পর মুখ খুলেছেন দলটির সদস্যসচিব ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম। সম্প্রতি এক গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে তিনি দলের সাবেক নেতা ডা. তাসনিম জারার পদত্যাগ ও দলীয় অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।
সাক্ষাতকারে নুসরাত তাবাসসুম জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ডা. তাসনিম জারাক অনেক সম্মান করেন। জোট ঘোষণার পরপরই তাসনিম জারার পদত্যাগের বিষয়টি স্মরণ করে তিনি বলেন, সে সময় তিনি সর্বোচ্চ পরিষদের (পিসি) সদস্য ছিলেন এবং নুসরাত তাবাসসুম নিজে ছিলেন এক্সিকিউটিভ বোর্ডের সদস্য।
তৎকালীন পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “আমি তখন রাগান্বিত ছিলাম, কারণ তার পদত্যাগের পুরো প্রক্রিয়াটি বা কখন কী ঘটেছে, তা আমাদের কাছে পরিষ্কার করা হয়নি।”
তাসনিম জারা জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের আলোচনার অংশ ছিলেন উল্লেখ করে নুসরাত বলেন, আলোচনা শেষেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তার এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে তিনি মনে করেন, যে কোনো রাজনীতিবিদেরই নিজস্ব রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষা ও পরিকল্পনা থাকতেই পারে।
তবে শুধুমাত্র জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনকেই তাসনিম জারার পদত্যাগের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখা ভুল হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর পেছনে আরও অসংখ্য কারণ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে তরুণ ও মেধাবী কিছু নেতার পদত্যাগে নড়েচড়ে বসেছিল এনসিপি। দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ ও তাজনূভা জাবীনসহ দেশজুড়ে বিভিন্ন স্তরের নেতারা দল ছেড়ে দূরে সরে যান। সে সময় সামান্তা শারমিনসহ আরও কিছু শীর্ষ নেতার দল ছাড়ার গুঞ্জন উঠলেও শেষ পর্যন্ত তারা দলেই থেকে যান।
নির্বাচন পরবর্তী সময় থেকেই এই পদত্যাগী নেতাদের পুনরায় দলে ফিরিয়ে আনার জন্য নানামুখী প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এনসিপি। সাম্প্রতিক সময়ে দলটির শীর্ষ নেতাদের বিভিন্ন বক্তব্যেও তাদের ফিরিয়ে আনার সেই আগ্রহ ও তৎপরতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।