ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর। ১৯৫৬ সাল থেকে ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’ এই সম্মাননার প্রবর্তন করে। শুরুতে কেবল ইউরোপের সেরা খেলোয়াড়দের জন্য এটি উন্মুক্ত থাকলেও বর্তমানে বিশ্বজুড়ে পুরুষ ও নারী—উভয় বিভাগের সেরা ফুটবলারদেরই এই ট্রফি দিয়ে সম্মানিত করা হয়।
তবে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে—বিশ্বের সবচেয়ে দামি এই স্বীকৃতি অর্জনের পর বিজয়ী খেলোয়াড়রা আয়োজকদের কাছ থেকে ঠিক কত টাকা প্রাইজমানি পান?
সরাসরি ক্যাশ প্রাইজ নেই, তবে ট্রফির নেপথ্যে রয়েছে কারুশিল্প
বাস্তবতা হলো, ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবলারকে আয়োজক প্রতিষ্ঠান সরাসরি কোনো নগদ অর্থ বা ক্যাশ প্রাইজ দেয় না। ফরাসি গহনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মেলেরিও সম্পূর্ণ হাতে তৈরি করে এই সোনালি ট্রফি।
অনেকেরই ধারণা ট্রফিটি পুরোপুরি খাঁটি সোনার তৈরি, কিন্তু এটি আসলে পিতল দিয়ে তৈরি যার ওপর সোনার প্রলেপ দেওয়া হয় এবং এর নিচের অংশে থাকে পাইরাইট পাথরের ভিত্তি। কারিগরদের প্রায় ১০০ ঘণ্টা সময় নিয়ে তৈরি এই ট্রফিটির আনুমানিক উৎপাদন খরচ ধরা হয় প্রায় ৩ হাজার ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ টাকা)। যদিও এর আনুষ্ঠানিক বাজারমূল্য আয়োজকরা প্রকাশ করেন না।
কোটিপতি বনে যাওয়ার সুযোগ যেভাবে
সরাসরি কোনো নগদ অর্থ দেওয়া না হলেও, ব্যালন ডি’অর জয় একজন খেলোয়াড়ের আর্থিক ও পেশাদার জীবনকে সম্পূর্ণ বদলে দেয়। এর পেছনে মূল ভূমিকা রাখে ক্লাব ও স্পনসর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে থাকা বিভিন্ন গোপন ও প্রকাশ্য চুক্তি:
ক্লাব বোনাস: অধিকাংশ শীর্ষ ফুটবলারের ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিতে ‘ব্যালন ডি’অর’ জয়ের জন্য আকর্ষণীয় আর্থিক বোনাসের শর্ত থাকে। ট্রফি জেতার পর এই শর্তের সুবাদে খেলোয়াড়রা ক্লাব থেকে পান বিশাল অঙ্কের অর্থ।
স্পনসরশিপ ও বিজ্ঞাপনী চুক্তি: এই পুরস্কার জয়ের ফলে খেলোয়াড়ের বিশ্বজোড়া জনপ্রিয়তা এবং বাণিজ্যিক মূল্য বহুগুণ বেড়ে যায়। যেমন—২০১৮ সালে এই ট্রফি জয়ের পর ক্রোয়েশিয়ার তারকা লুকা মদ্রিচ তার স্পনসর প্রতিষ্ঠান নাইকির কাছ থেকে প্রায় ৮ লাখ ইউরো বোনাস পেয়েছিলেন বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছিল।
ব্র্যান্ড ভ্যালু বৃদ্ধি: নতুন নতুন বাণিজ্যিক চুক্তি, স্পনসরশিপ এবং প্রচারণামূলক কার্যক্রমের পথ উন্মুক্ত হওয়ার মাধ্যমে খেলোয়াড়দের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয় কোটি কোটি টাকা।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, ব্যালন ডি’অর জিতলে আয়োজকদের পকেট থেকে কোনো নগদ চেক দেওয়া না হলেও, এই ট্রফি একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ারকে খ্যাতির শিখরে নেওয়ার পাশাপাশি তাকে পরোক্ষভাবে করে তোলে কোটিপতি।