রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’-এ দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রোহিঙ্গা সংকট ও মানবিক সহায়তা: মিয়ানমারের অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ এবং নির্বিঘ্নে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি, রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপানের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব: বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, উন্নত প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে যৌথ সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
অর্থনৈতিক সম্ভাবনা: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের জিডিপি এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়াতে পারে। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি জাপানি সরকার ও বেসরকারি খাতকে বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগ ও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
ঐতিহাসিক সম্পর্ক: বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে জাপানের প্রাথমিক স্বীকৃতি এবং অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে দেশটির ভূমিকার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জাপান সফরের কথা উল্লেখ করে দুই দেশের সম্পর্ককে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বর্তমানে জাপান অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।