কেরানীগঞ্জে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪-এর শুভাঢ্যা জোনাল অফিসকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক অনিয়মের সিন্ডিকেট। গ্রাম ইলেকট্রিশিয়ান শাহ আলমের বিরুদ্ধে কদমতলী খালপাড় সংলগ্ন এলাকার একাধিক ১১ থেকে ১২ তলা বহুতল ভবনে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো ধরনের নিয়মনীতি বা কারিগরি শর্ত না মেনেই এসব সংযোগ দেওয়া হচ্ছে।
অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রের দাবি, কদমতলী খালপাড় সড়কের পাশের বেশ কিছু বহুতল ভবনে অনুমোদিত লোড, কারিগরি যাচাই এবং বৈদ্যুতিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই গোপনে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে বা কাজ চলছে। অভিযোগ রয়েছে, শুভাঢ্যা জোনাল অফিসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে এই কাজগুলো করছেন শাহ আলম। এছাড়া সাধারণ গ্রাহকদের মিটার সংযোগ দেওয়ার কথা বলেও অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
যা বলছেন অভিযুক্ত ইলেকট্রিশিয়ান
এ বিষয়ে গ্রাম ইলেকট্রিশিয়ান শাহ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বহুতল ভবনগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ চলার কথা অকপটে স্বীকার করেন। তবে নিজের সাফাই গেয়ে তিনি বলেন, একা এই সুবিধার পুরোটা তিনি নেন না; বরং বিদ্যুৎ অফিসকে ম্যানেজ করেই এই কাজগুলো করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের কঠোর হুঁশিয়ারি
পুরো বিষয়টি নিয়ে কথা হয় ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪-এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) গোলাম কাউসার তালুকদারের সঙ্গে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদনপত্র ছাড়া ১১ থেকে ১২ তলা ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই।
জিএম আরও বলেন, "শুভাঢ্যা বিদ্যুৎ অফিসের কোনো কর্মকর্তা যদি এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া বহিরাগত ইলেকট্রিশিয়ান শাহ আলম বা যে-ই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং আইনের আওতায় আনা হবে।"