গাজীপুরের পাতারটেকে ‘জঙ্গি আস্তানা’র নামে নাটক সাজিয়ে সাতজনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে আগামী ১৭ নভেম্বর ধার্য করা হয়েছে। সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হকের অসুস্থতার কারণে তার আইনজীবীর করা সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ দেন।
বুধবার ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল শুনানির এই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর গাজীপুরের নোয়াগাঁও পাতারটেক এলাকায় ‘অপারেশন শরতের তুফান’ নামের কথিত অভিযানে সোলায়মান সরকারের বাড়িতে সাতজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের তুলে নিয়ে বগুড়ার একটি গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়েছিল। পরে সোয়াট সদস্যদের দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে একে জঙ্গি অভিযানের নাটক হিসেবে প্রচার করা হয়। ভয়ের কারণে নিহতদের পরিবারের কেউ শেষ পর্যন্ত মরদেহগুলো গ্রহণ করতেও সাহস পাননি।
নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে—মো. ইবরাহীম, ফরিদুল ইসলাম আকাশ ও সাইফুর রহমান। বাকি চারজনের পরিচয় এখনো অজানা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর নিহত ইবরাহীমের বাবা ট্রাইব্যুনালে এই বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।
এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১০ জন আসামি রয়েছেন। এর মধ্যে কারাগারে আছেন সাবেক আইজিপি শহীদুল হক ও ডিএমপির সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া।
অন্যদিকে, মামলার পলাতক আসামিরা হলেন:
তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল
এসির তৎকালীন প্রধান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী
সিটিটিসির তৎকালীন প্রধান মনিরুল ইসলাম
বগুড়ার তৎকালীন পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান
গাজীপুরের তৎকালীন পুলিশ সুপার ও ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ
বগুড়ার তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল
সিটিটিসির তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার ও সোয়াট টিম লিডার এস এম জাহাঙ্গীর হাছান
চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি এই ১০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। গত ২ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-১ এ রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষ হয়। পরবর্তীতে মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থানান্তরিত হয় এবং আগামী ১৭ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।