ঢাকা: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের উদ্বেগের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসি সচিব জানান, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে আগের বিভিন্ন উপনির্বাচনের ধারাবাহিকতায় বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বয় করে কাজ করছে বলে জানান আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, বিজিবি, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সমন্বয়ে এই মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ভোটকেন্দ্রে নজরদারি বাড়াতে বডি ক্যামেরার পাশাপাশি বিজিবির ড্রোন প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন থেকে এই সার্বিল্যান্স ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিস্থিতি ‘মিনিট বাই মিনিট’ পর্যবেক্ষণ করা হবে।
ভোটের দিনের সার্বিক পরিস্থিতির পাশাপাশি সংবাদমাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত খবরের প্রতিও কমিশন বিশেষ নজর রাখছে বলে জানান ইসি সচিব। তিনি বলেন, প্রতিটি সংবাদের পেছনে কিছু না কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাত্ত থাকে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও আন্দোলনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, কমিশন কোনো অভিযোগকেই ছোট করে দেখতে চায় না। তিনি বলেন, “প্রতিটি খবরেরই মূল্যায়ন আছে। আগামীকালকেই প্রমাণ পাওয়া যাবে কোনটা ঠিক আর কোনটা ত্রুটিপূর্ণ ছিল। কাজেই কাল পর্যন্ত আমাদের একটু অপেক্ষা করতে হবে।”
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সব শ্রেণির ভোটার নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব জানান, সে ধরনের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলে জানান। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “এখনো পর্যন্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কোনো কারণ আমরা পাইনি এবং ইনশাল্লাহ পাব না।”
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণে সাংবাদিকদের থাকার অনুরোধ জানান ইসি সচিব। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা কার্যক্রম দেখলে নির্বাচন পরিচালনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও স্বচ্ছ ধারণা লাভ করতে পারবেন এবং একটি ভালো নির্বাচন উপহার দিতে তারা কমিশনের পাশে থাকবেন।