আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম সামান্য হ্রাস পেয়েছে। মূলত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পূর্বে মূল্যস্ফীতি নিয়ে বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় এই পতন ঘটেছে।
তেলের বাজারে অস্থিরতা: সৌদি আরবের একটি তেল শোধনাগারে হামলার ঘটনায় সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের পণ্যবাজারবিষয়ক অর্থনীতিবিদ হামাদ হুসেইনের মতে, জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি ফেডকে আরও কঠোর নীতি গ্রহণে বাধ্য করতে পারে, যা স্বর্ণের বাজারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সুদহারের প্রভাব: জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে সুদহার বেশি থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা কিছুটা পিছু হটছেন।
মূল্যস্ফীতি ও ফেডের সিদ্ধান্ত: বুধবার (২৮ অক্টোবর) গ্রিনিচ মান সময় সন্ধ্যায় ফেডের সুদহার ঘোষণার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, নীতিগত সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হতে পারে। তবে সিএমইর ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, ডিসেম্বরে সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৮৪ শতাংশ ধরে রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। এছাড়া বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হতে যাওয়া মার্কিন ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচকের (পিসিই) রিপোর্টের ওপরও বাজারের দৃষ্টি রয়েছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে:
রুপা: স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৪.০৪ ডলারে নেমেছে।
প্লাটিনাম: এর দাম ০.১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৩৮.৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
প্যালাডিয়াম: বিপরীতমুখী প্রবণতায় প্যালাডিয়ামের দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৭.৮০ ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের উচ্চ মুনাফা ও শক্তিশালী ডলারের কারণে ২০২৬ সালের জন্য স্বর্ণের দামের পূর্বাভাস কিছুটা কমানো হলেও, রয়টার্সের একটি জরিপ অনুযায়ী ২০২৭ সালে বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।