সরকারি কর্মচারীদের উচ্চধাপে বেতন নির্ধারণ বা ‘পে-ফিক্সেশন’ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন বন বিভাগে একটি অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ কর্মচারীদের ন্যায্য বেতন ও টাইমস্কেল নির্ধারণ একটি নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ হওয়া সত্ত্বেও, একটি চক্রের খপ্পরে পড়ে এটি এখন চরম ভোগান্তি ও দুর্নীতির উৎসে পরিণত হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাঙামাটিসহ দেশের বিভিন্ন ডিভিশনে অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল (এজি) অফিস ও বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেট এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। টাকা না দিলে মাসের পর মাস ফাইল আটকে রাখা হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ কর্মচারীরা চরম জিম্মি দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ইতিমধ্যে এই অনিয়মের পক্ষে বিকাশ লেনদেনের স্ক্রিনশট, অডিও রেকর্ড এবং সরাসরি টাকা নেওয়ার ভিডিও চিত্রও প্রকাশ্যে এসেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সেবা পাওয়ার জন্য ডিভিশনভেদে উৎকোচের সুনির্দিষ্ট রেট নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাঙামাটি ডিভিশন: পে-ফিক্সেশনের কাজ সম্পন্ন করতে কর্মচারীপ্রতি ৩,৫০০ থেকে ৪,৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইলে নানা অজুহাতে ত্রুটি ধরে তা ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে।
অন্যান্য ডিভিশন: দেশের অন্যান্য অঞ্চলের বিভিন্ন ডিভিশনেও ফাইল ছাড়াতে ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত অবৈধ উৎকোচ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে মাঠপর্যায়ের সাধারণ কর্মচারীরা অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
ভুক্তভোগী ও নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘকাল ধরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে এই অবৈধ বাণিজ্য পরিচালনা করা হচ্ছে। এই চক্রের মূল হোতাদের তালিকায় যাদের নাম উঠে এসেছে—
পারভিন সিদ্দিকা (অডিটর, এজি অফিস)
শাদাত (বগুড়া ডিভিশন)
মুরাদ (অফিস সহকারী, ভোলা ডিভিশন)
মইন ও সুমন (অফিস সহকারী, কক্সবাজার ডিভিশন)
আমিনুল, হেলাল ও কাইউম (অফিস সহকারী, রাঙামাটি ডিভিশন)
অভিযোগ রয়েছে, এসব ব্যক্তি দপ্তরে বসে কিংবা বিকাশের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে এই অর্থ সংগ্রহ করে আসছেন।
দাপ্তরিক টেবিলের নিচে টাকা লেনদেন এবং ডিজিটাল ট্রানজেকশনের অকাট্য সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও ইতিমধ্যে সামনে আসায় কর্মচারীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী নিজস্ব কাজের জন্য টাকা দেওয়ার কোনো নিয়ম না থাকলেও এই চক্রের দৌরাত্ম্যে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
ভুক্তভোগী সাধারণ কর্মচারী এবং সচেতন মহল অবিলম্বে ফাঁস হওয়া ভিডিও, বিকাশ নম্বর ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ যাচাই করে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো কর্মচারীকে নিজেদের ন্যায্য পাওনা পেতে এমন সিন্ডিকেটের মুখে পড়তে না হয়।