ট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান মো. বেলায়াত হোসেন ও ম্যাজিস্ট্রেট হামিমুন তানজিনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনার অভিযোগে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আমান উল্লাহ চট্টগ্রামের নাগরিক ও ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এ নোটিশ পাঠিয়েছেন।
নোটিশে আগামী তিন দিনের মধ্যে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাময়িক বরখাস্তের পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করাসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশ সদর দপ্তর, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), সিডিএ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
নোটিশে অভিযোগ করা হয়, চট্টগ্রামে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নগর অবকাঠামোর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যে বেসরকারি হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সুপারশপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সশস্ত্র পুলিশ নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া, অভিযানকালে অশালীন আচরণ ও হুমকি প্রদান, পরবর্তীতে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের ওপর বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপ এবং ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও নোটিশে তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
আইনজীবীর দাবি, অভিযোগে বর্ণিত কর্মকাণ্ড দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা এবং সংবিধানে স্বীকৃত নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী হতে পারে। এ কারণে বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত তিন দিনের মধ্যে দাবি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন আইনজীবী মো. আমান উল্লাহ।
উল্লেখ্য, নোটিশে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও অভিযুক্তদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগগুলো এখনো প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় না।