নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছেন। গত রবিবার (গতকাল) তারা আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
ইমরান ইসলাম ইমন (দুর্গাপুর পৌর শহর)
সাব্বির আহম্মেদ (তেরিবাজার এলাকা)
গত শনিবার ভোরে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর বাজার এলাকা থেকে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। এরপর রবিবার দুপুরে তাঁদের দুর্গাপুর চৌকি আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে তারা স্বেচ্ছায় হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করায় আর রিমান্ড চাওয়া হয়নি। বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পুলিশ জানায়, ইমন ও সাব্বিরের বিরুদ্ধে এর আগেও হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে।
এ নিয়ে এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর সাজিবুল ইসলাম অপূর্ব এবং ২০ অক্টোবর রাতে আশিকুর রহমান প্রাঙ্গণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বর্তমানে তাঁরাও রিমান্ড শেষে কারাগারে আছেন।
সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, সব আসামিকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব, নেত্রকোনা জেলা শাখা।
রবিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুন মুন জাহান লিজা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব নেত্রকোনা জেলা শাখার সভাপতি মাহমুদুল হাসান শামীম তালুকদার, সিনিয়র সহসভাপতি ড. রবিকুল ইসলাম রিপন, সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক খসরু মিয়া দিপু এবং সংগঠনের উপদেষ্টা ইকবাল হোসেন প্রমুখ।
গত ১৫ অক্টোবর দুর্গাপুর উপজেলার তেলুঞ্জিয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করার সময় দুর্বৃত্তরা সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করে। পরে তাঁকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে পর দিন দুর্গাপুর থানায় আটজনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশি অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো।