
বর্তমানে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় দারুণ জনপ্রিয় একটি নাম ‘চিয়া সিড’। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ছোট বীজটিকে বিশেষজ্ঞরা ‘সুপারফুড’ হিসেবেও অভিহিত করে থাকেন। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখা চিয়া সিড পান করা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা।
হজমশক্তি ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য বৃদ্ধি
চিয়া সিডে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় খাদ্য আঁশ। সকালে এটি গ্রহণ করলে পরিপাকতন্ত্র সক্রিয় হয় এবং পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে, যা কোষ্ঠকাঠিন্যের দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর করতে বেশ কার্যকর।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
পানিতে ভিজিয়ে রাখলে চিয়া সিড তরল শোষণ করে জেলের মতো জেলির রূপ নেয় এবং আকারে ফুলে ওঠে। এটি খাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পাকস্থলী পূর্ণ থাকে, যার ফলে বারবার অপ্রয়োজনীয় খাবার বা স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা কমে আসে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
শরীরের আর্দ্রতা বা হাইড্রেশন বজায় রাখা
চিয়া সিড নিজের ওজনের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি পানি ধরে রাখতে পারে। সকালে খালি পেটে ভেজানো চিয়া সিড খেলে দিনজুড়ে শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং ডিহাইড্রেশন বা পানির ঘাটতি দূর হয়।
হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখা
এতে উচ্চমাত্রায় উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। নিয়মিত সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে এটি গ্রহণ করলে রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করতে ভূমিকা রাখে।
রক্তে শর্করার মাত্রা বজায় রাখা
চিয়া সিডের ফাইবার উপাদান পরিপাক প্রক্রিয়াকে কিছুটা ধীরগতির করে দেয়, যা খাবার খাওয়ার পর রক্তে হঠাৎ শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া রোধ করে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের এটি নিয়মিত গ্রহণের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা উচিত।
হাড় ও পেশির শক্তি বৃদ্ধি
আঁশের পাশাপাশি এতে রয়েছে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান। যা হাড় মজবুত করতে এবং দৈনিক পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে।
যেভাবে ও যতটুকু খাবেন
এক থেকে দুই চা-চামচ চিয়া সিড সাধারণ পানিতে অন্তত ২০-৩০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে খাওয়া উত্তম। শুকনো অবস্থায় এটি খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে, কারণ তা গলায় আটকে গিয়ে শ্বাসকষ্ট তৈরি করতে পারে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: সবার সহ্যক্ষমতা এক নয়। অতিরিক্ত আঁশ একসঙ্গে খেলে পেটে গ্যাস বা অস্বস্তি হতে পারে। তাই প্রথমে সামান্য পরিমাণ দিয়ে শুরু করাই শ্রেয়।
অনলাইন ডেস্ক 






















