
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি এক মন্ত্রীকে বারবার ‘স্যার’ সম্বোধন করে ভাইরাল হওয়ার ঘটনার রেশ না কাটতেই এবার কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিমকে ঘিরে নতুন করে প্রশাসনিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। তার ছুটির আবেদনপত্র ও কর্মস্থল ত্যাগের সময় নিয়ে তৈরি হওয়া অস্পষ্টতার কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে দাপ্তরিক কার্যক্রম, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীরা।
জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া আবেদনপত্র অনুযায়ী, পারিবারিক কারণ দেখিয়ে ২৫ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের নৈমিত্তিক ছুটি চেয়েছেন ইউএনও তানজিলা তাসনিম। একই সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর সাপ্তাহিক ছুটির সময়েও কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতি প্রার্থনা করা হয়। তবে জনসমক্ষে আসা ওই আবেদনপত্রে কোনো দৃশ্যমান সিল বা অনুমোদনের স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি।
তাছাড়া, আবেদনপত্রে উল্লেখিত সময়ের সঙ্গে বাস্তবের মিল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ইউএনও কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাকারিয়া হোসেন দাবি করেছেন যে তিনি ২২ অক্টোবরই ছুটি নিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন এবং বৃহস্পতিবার তার অফিসে ফেরার কথা রয়েছে। ছুটির নির্ধারিত সময়ের আগে কর্মস্থল ত্যাগ করা এবং আবেদনপত্রে ছুটির অনুমোদনের সিল-স্বাক্ষর না থাকায় পুরো বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত সোম (২৬ অক্টোবর) ও মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইউএনওর কার্যালয়ে এসে সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা মোপ্র. হানিফ আলী ও রাশেদুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন জরুরি আবেদন নিষ্পত্তি এবং স্বাক্ষরের জন্য ইউএনওকে না পেয়ে তারা প্রতিদিন ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এদিকে রাজারহাটে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর পদটি শূন্য থাকায় সেবাপ্রত্যাশীদের এই দুর্ভোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইউএনওর অনুপস্থিতিতে রাজারহাট উপজেলার রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ইউএনও মো. মাহমুদুল হাসানকে। তবে তিনি জানান, ডিসি স্যার তাকে বিষয়টি জানালেও কোনো লিখিত কাগজ দেখাতে পারেননি, তিনি কেবল মৌখিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবেও তাকে রাজারহাট উপজেলায় সশরীরে দেখা মিলছে না।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ নিজেও গত ২২ অক্টোবর থেকে ছুটিতে রয়েছেন। বর্তমানে ছুটিকালীন দায়িত্ব পালনকারী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, রাজারহাট ইউএনওর অনুপস্থিতি নিয়ে কেউ তাকে লিখিত কোনো অভিযোগ দেননি, তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউএনও তানজিলা তাসনিম ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত বছরের (ডিসেম্বর ২০২৫) কক্সবাজার সদর উপজেলার ইউএনও থাকাকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয়ে এক পর্যটক কর্তৃক গ্রেপ্তারের হুমকির ঘটনায় আলোচনায় এসেছিলেন তানজিলা তাসনিম। সর্বশেষ এই ঘটনার পর প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, ছুটির অনুমোদন এবং দায়িত্বপালন সংক্রান্ত এসব অস্পষ্টতার দ্রুত সুরাহা করা হোক, যাতে সাধারণ মানুষ কোনোভাবেই সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত না হন।
অনলাইন ডেস্ক 



















