
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার পর থেকেই অপরাধজগতের আলোচনায় উঠে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক অনিল পণ্ডিত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত এই ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তা দিয়ে ওই হামলার দায় স্বীকার করেছেন।
তবে তার এই দাবি কিংবা এই হামলায় তার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা এখনো স্বাধীনভাবে কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত করা যায়নি। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের পানিপথের বাসিন্দা অনিল পণ্ডিত। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে অবৈধ উপায়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। এরপরই ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের চক্রের সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরি হয়।
সূত্রের খবর, প্রায় আট মাস আগে এই গ্যাংয়ের অন্যতম সক্রিয় সদস্য রণদীপ মালিকের স্থলাভিষিক্ত হন অনিল। তবে তিনি সরাসরি লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সরাসরি নির্দেশে কাজ করতেন কি না, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একটি সূত্র জানিয়েছে, হ্যারি বক্সারখ্যাত হরি চাঁদ জাটের মাধ্যমেই মূলত নির্দেশনা পেতেন তিনি।
শুধু বর্তমান ঘটনা নয়, এর আগেও হরিয়ানা, দিল্লি ও পুনেতে গুলিবর্ষণ এবং চাঁদাবাজির একাধিক ঘটনায় অনিল পণ্ডিতের নাম এসেছে। এর মধ্যে দিল্লির একটি জিমের বাইরে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী গুরু রনধাওয়ার ওপর হামলার ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া হরিয়ানায় অর্থ বিনিময় প্রতিষ্ঠানে গুলিবর্ষণের পেছনেও বিদেশি অপরাধী চক্রের যোগসূত্রের অভিযোগে অনিলের নাম উঠে আসে।
গত ১৮ অক্টোবর মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এই ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট এবং অডিও বার্তা ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে অনিল পণ্ডিতের নামে হামলার দায় স্বীকার করা হয়।
ওই বার্তায় দাবি করা হয়, সালমান খানের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে টাইগার শ্রফকে আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল। এমনকি সালমান খান ও তার সাথে কাজ করা বলিউডের অন্যান্য তারকাদেরও সরাসরি হত্যার হুমকি দেওয়া হয় ওই বার্তায়।
তবে ছড়িয়ে পড়া এসব পোস্ট ও অডিও বার্তার সত্যতা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। হামলার নেপথ্যে প্রকৃত কারা জড়িত এবং এর আসল উদ্দেশ্য কী—তা পুলিশি তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে।
অনলাইন ডেস্ক 

























