
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত স্বীকৃতি ‘ব্যালন ডি’অর’। লিওনেল মেসি থেকে শুরু করে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, জিনেদিন জিদান কিংবা রোনালদো নাজারিওর মতো কিংবদন্তিরা এই সোনালি ট্রফি নিজেদের করে নিয়েছেন। ফুটবলের অনেক বড় বড় নাম এই পুরস্কারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকলেও ফুটবলের দুই অবিসংবাদিত সম্রাট—পেলে ও দিয়েগো ম্যারাডোনা কখনো এই সম্মান অর্জন করতে পারেননি। ফুটবলপ্রেমীদের মনে তাই প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক, যাঁদের নাম উচ্চারণ না করলেই নয়, তাঁরা কেন বঞ্চিত রইলেন এই স্বীকৃতি থেকে?
এর মূল কারণ ছিল ব্যালন ডি’অরের দীর্ঘদিনের এক নিয়ম। ১৯৫৬ সালে চালুর পর দীর্ঘ সময় ধরে এই পুরস্কার কেবল ইউরোপের খেলোয়াড়দের জন্যই সীমাবদ্ধ ছিল; যে কারণে একে ‘ইউরোপিয়ান বর্ষসেরা ফুটবলার’ অ্যাওয়ার্ডও বলা হতো।
১৯৯৫ সাল থেকে নিয়মে পরিবর্তন এনে ইউরোপের ক্লাবগুলোতে খেলা বিশ্বের যেকোনো দেশের খেলোয়াড়দের জন্য এর দরজা উন্মুক্ত করা হয়। ওই বছরই প্রথম অ-ইউরোপিয়ান ফুটবলার হিসেবে এসি মিলানের লাইবেরিয়ান স্ট্রাইকার জর্জ উইয়াহ ব্যালন ডি’অর জেতেন। পরবর্তীতে ২০০৭ সাল থেকে পুরস্কারটি বিশ্বের যেকোনো ক্লাবে খেলা খেলোয়াড়দের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হয়।
তবে পেলে ও ম্যারাডোনা এই নিয়মের সুবিধা পাওয়ার আগেই তাঁদের সোনালী ক্যারিয়ার শেষ করেছিলেন:
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে
১৯৭৭ সালে নিউ ইয়র্ক কসমস থেকে নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানেন পেলে। প্রথম অ-ইউরোপিয়ান হিসেবে জর্জ উইয়াহর ব্যালন ডি’অর জেতার প্রায় দুই দশক আগেই ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছিল ‘কালো মানিক’। ফলে ইউরোপীয় সীমানার বেড়াজালে থাকা এই পুরস্কারের জন্য তিনি কখনোই বিবেচিত হননি।
আর্জেন্টাইন মহানায়ক ম্যারাডোনা
বার্সেলোনা, নাপোলি ও সেভিয়ার জার্সিতে দীর্ঘ সময় ইউরোপ মাতালেও ১৯৯৩ সালে তিনি নিজ দেশ আর্জেন্টিনায় ফিরে যান। এর আগে ১৯৯১ সালে কোকেইন সেবনের দায়ে ১৫ মাসের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে তাঁর ইউরোপীয় ক্যারিয়ারের ইতি ঘটে অকালেই। ফলে নিয়মের কড়াকড়ি এবং ক্যারিয়ারের শেষ মুহূর্তের এই জটিলতায় ম্যারাডোনার ক্যাবিনেটেও অধরা থেকে যায় ব্যালন ডি’অর।
স্পোর্টস ডেস্ক 






















