
প্রকৃতির এক ভয়ংকর রূপ হলো ট্রপিক্যাল সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড়। সমুদ্রের বুকে জন্ম নিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো এই ঝড়গুলোকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজে পরিচিত করাতে এবং সচেতনতামূলক বার্তা পাঠাতে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) নির্দেশিকা অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট নাম দেওয়া হয়। উত্তর ভারত মহাসাগর অঞ্চলে এই নামকরণের মূল দায়িত্ব পালন করে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি)।
উত্তর ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে ২০০৪ সাল থেকে এই নামকরণ প্রথা চালু রয়েছে। ২০২০ সালে ডব্লিউএমও এবং এসকাপের সদস্য ১৩টি দেশের (বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন) প্রস্তাবনায় ১৬৯টি নামের একটি নতুন মাস্টার তালিকা প্রস্তুত করা হয়।
প্রতিটি দেশ থেকে ১৩টি করে নাম দিয়ে এই বর্ণানুক্রমিক তালিকা তৈরি করা হয়েছে। কোনো নিম্নচাপ বা লঘুচাপ শক্তি সঞ্চয় করে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় অন্তত ৬২ কিলোমিটার (৩৪ নটস) বা তার বেশি স্পর্শ করলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ঘূর্ণিঝড়’ ঘোষণা করা হয় এবং তালিকা থেকে সিরিয়াল অনুযায়ী নাম বরাদ্দ করা হয়। আটলান্টিক মহাসাগরের বিপরীতে উত্তর ভারত মহাসাগরে একবার ব্যবহৃত নাম ভবিষ্যতে আর কখনো পুনর্ব্যবহার করা হয় না, বরং তা চিরতরে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর পর উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মাস্টার তালিকা অনুযায়ী অপেক্ষায় থাকা পরবর্তী ১০টি ঝড়ের নাম ক্রমানুসারে নিচে দেওয়া হলো:
মুরাসু (ভারত)
আকভান (ইরান – পারস্য সংস্কৃতির পৌরাণিক চরিত্র)
কানি (মালদ্বীপ – সামুদ্রিক পরিবেশের সাথে জড়িত অর্থবহ নাম)
ঙ্গামান (মিয়ানমার)
সাইল (ওমান)
সাহাব (পাকিস্তান)
লুলু (কাতার – যার অর্থ মুক্তা)
গাজীর (সৌদি আরব)
গিঘুম (শ্রীলঙ্কা)
থিয়ানিয়ত (থাইল্যান্ড)
এই সুশৃঙ্খল নামকরণের ফলে একদিকে যেমন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের প্রশাসনিক কাজ সহজ হয়, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষায় আগাম প্রস্তুতির বার্তা পৌঁছে দেওয়া অনেক বেশি কার্যকর হয়ে ওঠে।
অনলাইন ডেস্ক 

























