
তিস্তা মহাপরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই এর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি। প্রকল্পটিতে চীন, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক পরামর্শকদের মতামত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বুধবার বিকেলে রংপুর নগরীর ডিসির মোড় এলাকায় ঐতিহাসিক শ্যামাসুন্দরী খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা এমনভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কাটিয়ে দেশের মানুষ আগামী ১০০ বছর এর সুফল ভোগ করতে পারে।”
প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ফারাক্কা চুক্তি নবায়ন প্রসঙ্গে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, চুক্তি নবায়নের মাধ্যমে ভারতকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা কেবল নির্দিষ্ট কোনো সরকারের নয়, বরং বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের বন্ধু। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেভাবে এই চুক্তি করেছিলেন, আগামী ১২ ডিসেম্বরের পর ঠিক সেভাবেই তা নবায়ন করা হবে।
এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রংপুর নগরীর প্রাণকেন্দ্রের শ্যামাসুন্দরী খালের উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে এই কাজ বাস্তবায়ন করছে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ১৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং বাকি ৮২ শতাংশ কাজ ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে সম্পন্ন হবে।
খালের ময়লা-আবর্জনা ফেলা প্রসঙ্গে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, রাতে খালের পাশে ময়লা ফেললে তা বরদাস্ত করা হবে না। জনসচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে নজরদারি বাড়ানো হবে এবং অপরাধীদের জরিমানার আওতায় আনা হবে।
খালের দুই তীরে ওয়াকওয়ে (হাঁটার রাস্তা) নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নকাজে কোনো দল-মতের তোয়াক্কা করা হবে না। কাজে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে যতই প্রভাবশালী হোন না কেন, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় তিনি সফলভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে নগরবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল ইসলাম এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি নাজমুল আলম নাজুসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনলাইন ডেস্ক 
























