
জাপানি সংস্কৃতিতে পরিচ্ছন্নতা কেবল বাহ্যিক কোনো বিষয় নয়, বরং তা জীবনযাপনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঠিক এই মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ এবং শ্রমের মর্যাদা গড়ে তোলার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধের লক্ষ্য নিয়ে রাজধানীর ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ‘ও-সোজি’ মডেলের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম।
ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের উদ্যোগে গঠিত ‘ক্লিন স্কুল টিম’ এই পাইলট প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। আজ বুধবার সকালে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন।
দৈনিক রুটিন কার্যক্রম: প্রতিদিন বিদ্যালয়ের নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী ১৫ থেকে ২০ মিনিট পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হবে। শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে শ্রেণিকক্ষ, করিডোর ও পাঠাগারের মতো নিরাপদ স্থান পরিষ্কারের দায়িত্ব দেওয়া হবে, যা শিক্ষকদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে থাকবে। তবে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে টয়লেট বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরাই পরিষ্কার করবেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও ঝুঁকি পরিদর্শন: সপ্তাহে অন্তত এক দিন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ডেঙ্গুর ঝুঁকি পরিদর্শন করা হবে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং পাত্র ঢেকে রাখার মতো বিষয়গুলো চেকলিস্টের মাধ্যমে তদারকি করা হবে।
‘আমার বাসা, আমার দায়িত্ব’ কর্মসূচি: কেবল বিদ্যালয়েই নয়, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে এই অভ্যাস পরিবার ও সমাজে ছড়িয়ে দিতে দেওয়া হবে সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা চেকলিস্ট। ঘর গোছানো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়গুলো প্রতি রোববার শিক্ষকরা মূল্যায়ন করবেন।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সার তৈরি: বিদ্যালয়গুলোতে বর্জ্য পচনশীল, পুনর্ব্যবহারযোগ্য এবং অন্যান্য—এই তিন ভাগে আলাদা করার ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি পচনশীল বর্জ্য থেকে কীভাবে জৈব সার তৈরি করা যায়, সে বিষয়েও শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হবে।
মূল্যায়ন ও পুরস্কার: পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর ভিত্তি করে বিদ্যালয়, শ্রেণি ও শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। সেরা
অনলাইন ডেস্ক 























