Dhaka ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জাপানি ‘ও-সোজি’ মডেলে ঢাকার ২১ বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ পাইলট প্রকল্প শুরু ভাঙ্গায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত: সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য প্রতিহত করার আহ্বান দেশে আর কোনো গুম-বিচারবহির্ভূত হত্যা দেখতে চায় না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেমিট্যান্স আহরণ ও সেবা আরও সহজ করতে ওয়ান ব্যাংকের সাথে নগদের কৌশলগত চুক্তি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও থামেনি বিএডিসির বীজ সিন্ডিকেট: বহাল তবিয়তে ‘বঙ্গ অ্যাগ্রিটেক’ মিরপুরে ডিএনসিসির বড় অভিযান: গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো দুই হাজার অবৈধ দোকান বন বিভাগে ‘পে-ফিক্সেশন’ বাণিজ্য: ফাইলপ্রতি ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ আদায়ের অভিযোগ, জিম্মি সাধারণ কর্মচারীরা পঞ্চগড় বোদা ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য: তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ভিডিও ভাইরালের পর ক্ষোভ কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদামে ২ কোটি টাকার চাল ও ধান আত্মসাৎ: দুদকের মামলা চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জে মেঘনা নদীতে অভিযান: ১ লাখ মিটার জাল ও ২৫০ কেজি ইলিশসহ আটক ৩

কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদামে ২ কোটি টাকার চাল ও ধান আত্মসাৎ: দুদকের মামলা চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : ০৮:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ২০ বার

কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদামে সরকারি চাল ও ধানের মজুত এবং সংগ্রহের নথিতে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় ২ কোটি ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫২ টাকা মূল্যের সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এই মামলা দায়ের করা হয়। আজ বুধবার সকালে দুদকের কুড়িগ্রাম কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

দুদক সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের শুরুর দিকে দুদকের একটি এনফোর্সমেন্ট দল কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদামে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানে খাদ্যশস্যের মজুতে নানা অসংগতি ধরা পড়ে। প্রাথমিক সেই Findings কমিশনকে জানানোর পর এবং দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে অনুমতি সাপেক্ষে মামলাটি দায়ের করা হয়। এনফোর্সমেন্ট অভিযান থেকে শুরু করে মামলা দায়ের পর্যন্ত প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে কয়েক মাস সময় নেয়।

আসামিরা যারা

শরীফ আহমেদ: ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদাম।

হেলাল উদ্দিন: সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক, পাটগ্রাম এলএসডি, লালমনিরহাট।

হালিমুর রহমান: উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক, কুড়িগ্রাম সদর।

মোহাম্মদ হামিদুল হক: ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক, কুড়িগ্রাম।

গুদাম থেকে শুরু করে উপজেলা ও জেলা—তিন স্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, এটি কেবল একটি গুদামের সাধারণ গরমিল নয়, বরং এর পেছনে বড় কোনো সিন্ডিকেট থাকতে পারে।

দুদকের এজাহারে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ও সংগ্রহের নথি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা এবং বাস্তব ভৌত যাচাইয়ে বড় ধরনের গরমিল পাওয়া গেছে।

নথিপত্রে যে পরিমাণ চাল দেখানো হয়েছে, বাস্তবে গুদামে তার চেয়ে অনেক কম চাল পাওয়া গেছে।

ধান সংগ্রহ ও এর হিসাবের ক্ষেত্রেও ব্যাপক জালিয়াতি ধরা পড়ে।

অনেক ক্ষেত্রে বিল পরিশোধ করা হলেও বাস্তবে গুদামে কোনো ধান পাওয়া যায়নি।

দুদকের প্রাথমিক তদন্ত বলছে, চার কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশে ভুয়া রেকর্ড ও কাগজপত্রের মাধ্যমে এই সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাৎ করেছেন। তবে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালতে বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করা যাচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি খাদ্যগুদামের চাল ও ধান সাধারণ মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা এবং বাজারদর স্থিতিশীল রাখার কাজে ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খাতে মজুত ও হিসাবের গরমিল কেবল আর্থিক ক্ষতিই ডেকে আনে না, বরং পুরো রাষ্ট্রীয় খাদ্য ব্যবস্থাপনার ওপর মানুষের আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এখন সবার নজর থাকবে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে, যেখানে বেরিয়ে আসবে প্রকৃত সত্য এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

জাপানি ‘ও-সোজি’ মডেলে ঢাকার ২১ বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ পাইলট প্রকল্প শুরু