
নাটোরের গুরুদাসপুরে পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলামের জানাজায় বক্তব্য দেওয়ার সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়েছেন উপস্থিত মুসল্লি ও নেতাকর্মীরা। শাকিল হত্যা মামলায় এমপির ছেলেই জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ায় এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুরুদাসপুরের শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ মাঠে শাকিলের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে দুপুর ২টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তার প্রথম জানাজা হয়। পরে গুরুদাসপুরের পুরানপাড়া কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
নিহত শাকিলের জানাজায় বক্তব্য দেওয়ার সময় এমপি আব্দুল আজিজ উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘প্রিয় ভাইয়েরা আমার, আমার একটা কথা শুনতে হবে দাদারা।’ এ কথা বলার পরপরই উপস্থিত জনতার একাংশ ক্ষিপ্ত হয়ে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় তিনি দ্রুত বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করেন।
পরিস্থিতি শান্ত করতে মাইকে সংসদ সদস্য ঘোষণা দেন, তার ছেলেও যদি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকে, তবে তিনি ছেলের পক্ষে না দাঁড়িয়ে নিহত শাকিলের পক্ষেই থাকবেন। এ সময় তিনি নিহতের পরিবারকে নিজের পক্ষ থেকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দেন। তবে এই ঘোষণার পর জানাজাস্থলে আরও বেশি উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
জানাজা শেষে রাত ১১টার দিকে মুসল্লিদের একটি অংশ মিছিল নিয়ে চাঁচকৈড় বাজারে যান। সেখানে আমেরিকাপ্রবাসী রাসেলের মালিকানাধীন ‘রাশ আরবান স্টাইল’ নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা জড়িতদের নিশ্চিত করা যায়নি।
জানাজায় জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ছাত্রদলের রাজনীতি করেই তিনি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন এবং শাকিল হত্যার সঠিক বিচার নিশ্চিত করা হবে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে চাঁচকৈড় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে নূর একাডেমির সামনে হেলমেট পরিহিত দুই যুবক শাকিলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এরপর পালানোর সময় ধাওয়া করে তাকে ধরে ফেলে এবং চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। দীর্ঘ ১২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে ঢাকা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) হাসপাতালে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় শাকিলের বাবা রবিউল করিম ১৯ অক্টোবর গুরুদাসপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে ও গুরুদাসপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। পরে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নুরুজ্জামান মিন্টুকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ যুবদল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন। বিজ্ঞপ্তিতে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, বহিষ্কৃত ব্যক্তির কোনো অপকর্মের দায় দল নেবে না এবং তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দলীয় নেতাকর্মীদের।
অনলাইন ডেস্ক 























