
২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবরের নির্বাচনে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) দায়িত্ব নেওয়া কমিটির চার বছর মেয়াদের ঠিক অর্ধেক বা দুই বছর পেরিয়ে গেছে। এই দুই বছরের খতিয়ান মেলানো হলে দেখা যায়—দেশের ফুটবলে সাফল্যের উজ্জ্বল আলোর পাশাপাশি রয়েছে গভীর হতাশা আর অচলাবস্থার চিত্র।
এক নজরে বাফুফের দুই বছরের অর্জন ও প্রাপ্তির খতিয়ান
১. নারী ফুটবলের সাফল্য ও প্রাপ্তি
সাফল্য: নারী দল ধরে রেখেছিল সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা। ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো ইতিহাস গড়ে এএফসি নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বের টিকিট নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
র্যাংকিং ও ঘরোয়া লিগ
ফিফা র্যাংকিংয়ে নারী দল ১২৮ থেকে উন্নতি করে ১০৪ পর্যন্ত উঠলেও বর্তমানে অবস্থান ১০৬-এ। ঘরোয়া নারী লিগে ১১টি ক্লাব অংশ নিলেও লিগের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে প্রতি একাদশে চার তরুণ ফুটবলার (অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২০) খেলানোর নিয়মটি প্রতিভার বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছে।
২. পুরুষ ফুটবলের উত্থান-পতন
পুরুষ ফুটবল দলের পারফরম্যান্স ছিল ঢেউয়ের মতো ওঠানামায় ভরা। ফিফা র্যাংকিংয়ে বর্তমানে দলটি ১৮২তম অবস্থানে রয়েছে (ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১১০ ও সর্বনিম্ন ১৯৭)।
২০২৫ সালের নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে ১-০ গোলের ঐতিহাসিক জয় দেশের ফুটবলপ্রেমীদের উল্লাসে ভাসালেও, অক্টোবরে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ২-৯ গোলের বড় হার এশিয়ান মঞ্চে দলের প্রকৃত অবস্থাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
৩. খেলোয়াড় তৈরির কারখানা ও জেলা ফুটবল স্তিমিত
পাইওনিয়ার লিগ: জাতীয় দলের তারকা তৈরির সূতিকাগার খ্যাত পাইওনিয়ার লিগ ২০২২ সাল থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ। বাফুফে কমিটি গঠনের দুই বছর পার হলেও হাজী টিপু সুলতানের নেতৃত্বাধীন কমিটি পূর্ণতা পায়নি।
জেলা ফুটবল: গত বছর দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে মাত্র ৫টি জেলায় লিগ আয়োজিত হয়েছে, বাকি ৫৯ জেলাতেই ছিল নীরবতা। অনেক জেলায় দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে কোনো খেলা বা ফুটবলীয় কর্মকাণ্ড নেই।
৪. পেশাদার লিগ ও আর্থিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন
পেশাদার লিগ: ২০২৫-২৬ মৌসুমের বাংলাদেশ ফুটবল লিগে ১০টি ক্লাব অংশ নিলেও বাজেট স্বল্পতা এবং মানহীন সূচি ও ভেন্যুর কারণে গ্যালারিতে দর্শক টানার স্বপ্ন অধরা রয়ে গেছে।
অর্থায়ন ও স্বচ্ছতা
এএফসি থেকে প্রতি বছর ৫ লাখ ডলার এবং ২০২৫ থেকে ২০২৮ পর্যন্ত বাড়তি আড়াই লাখ ডলার অনুদান পাওয়ার কথা। ফিফার ফরওয়ার্ড তহবিলের ৬৪ শতাংশের বেশি অবকাঠামোয় ব্যয় হওয়ার কথা বলা হলেও এই বিশাল অঙ্কের টাকার সুনির্দিষ্ট ব্যবহার, কোচ তৈরি কিংবা মাঠ সংস্কারের দৃশ্যমান ও যাচাইযোগ্য কোনো হিসাব নেই।
৫. ভবিষ্যৎ রোডম্যাপ ও প্রাপ্তির হিসাব
সামনে ২০২৮ সাল পর্যন্ত একটি রোডম্যাপ রয়েছে যেখানে এলিট খেলোয়াড় উন্নয়ন, নারী ফুটবল ও কোচিংকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট বাজেট, সময়সীমা বা সাফল্য পরিমাপের সুস্পষ্ট মানদণ্ড না থাকায় দুই বছরের এই হিসাব শেষ পর্যন্ত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে—একদিকে নারীদের অদম্য পথচলা, অন্যদিকে ঘরোয়া ফুটবলের নিস্তব্ধ মাঠ আর অস্বচ্ছতার খাতা।
স্পোর্টস ডেস্ক 






















