
রাজধানীর বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হানিফ ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে গভীর রাতে অনুমতি ছাড়া এক নারীর বাসায় প্রবেশ, আসবাবপত্র ভাঙচুর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত ২৬ আগস্ট দিবাগত রাতে বাড্ডা এলাকার একটি আবাসিক বাসায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। স্থানীয় থানায় প্রতিকার না পেয়ে ভুক্তভোগী নারী রাবেয়া আক্তার পরবর্তীতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করে নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে বাড্ডা থানার এসআই হানিফ, মজিরুন নেছা, মো. দিপু, সুমি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জন ব্যক্তি সম্পূর্ণ সাদা পোশাকে রাবেয়া আক্তারের বাসায় হানা দেন। প্রধান গেট খুলতে সামান্য দেরি হওয়ায় এসআই হানিফ দরজায় উপর্যুপরি লাথি মারেন। এই আকস্মিক তাণ্ডবে বাসার ভাড়াটিয়ার ৪, ৮ ও ১২ বছরের কোমলমতি শিশুরা চরম আতঙ্কিত হয়ে কান্নাকাটি শুরু করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর ও তছনছ করা হয়। এ সময় নগদ ৬ হাজার টাকা, ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা মূল্যের আট আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন এবং একটি মূল্যবান ব্লুটুথ স্পিকার লুট করা হয়। অপারেশন শেষে এসআই হানিফ ভুক্তভোগী রাবেয়াকে যেকোনো মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানোর প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে যান।
ন্যায়বিচার পাওয়ার আকুতি জানিয়ে ভুক্তভোগী রাবেয়া আক্তার (নিপা) গণমাধ্যমকে বলেন, “একজন পুলিশ কর্মকর্তা হয়ে এসআই হানিফ যে বর্বরোচিত আচরণ করেছেন, তা আইনের শাসনের চরম লঙ্ঘন। থানায় অভিযোগ করে প্রতিকার না পেয়ে ডিএমপি কমিশনারের কাছে এসেছি। এখানেও ন্যায়বিচার না পেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি ও আদালতের দ্বারস্থ হব।”
আরেক ভুক্তভোগী দম্পতি শফিকুল ইসলাম ও মাজেদা খাতুন অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত মজিরুন নেছা এসআই হানিফের অনৈতিক আশ্রয়ে তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক লিখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছেন।
তবে সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে প্রধান অভিযুক্ত এসআই হানিফ দাবি করেন, সে সময় ওই এলাকায় তাঁর সরকারি ডিউটি ছিল এবং গোলমালের শব্দ শুনে তিনি কেবল পরিস্থিতি শান্ত করতে সেখানে গিয়েছিলেন। অপর অভিযুক্ত এসআই তারেক আজিজ জানান, দাপ্তরিক অভিযোগের কাগজ হাতে পেলে তিনি লিখিত জবাব দেবেন। গুলশান বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ রুহুল কবির খান বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার মৌখিক আশ্বাস দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের পরোয়ানা বা সুনির্দিষ্ট বিধান ছাড়া গভীর রাতে সাদা পোশাকে সাধারণ নাগরিকের বাসায় বলপূর্বক প্রবেশ ও ভাঙচুর সম্পূর্ণ অবৈধ। পুলিশ সদস্যদের একাংশের এ ধরনের ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের মনে গভীর নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে। রাষ্ট্র যখন নাগরিকদের জানমালের রক্ষক, তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের এমন কর্মকাণ্ড আইনের শাসনকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করে।
তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী প্রমাণিত হলে এসআই হানিফসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















