
রাজধানীর যানজট নিরসনে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মেগাপ্রজেক্ট ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পটির কার্যক্রমে ধীরগতি, প্রশাসনিক জটিলতা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসন্তোষ এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়হীনতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে মেট্রোরেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শওগাতুল আলমের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন আজিজুর রহমান নামের এক ব্যক্তি।
গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দেওয়া ওই আবেদনে এমডির নিয়োগপ্রক্রিয়া, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো খতিয়ে দেখার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
প্রশাসনিক জটিলতা ও পদত্যাগ: বর্তমান ব্যবস্থাপনার কারণে মেট্রোরেল সম্প্রসারণ ও উন্নয়নমূলক কাজে কাঙ্ক্ষিত গতি আসছে না। এছাড়া এমডির আচরণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অসন্তুষ্ট হয়ে ইতোমধ্যে তিনজন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অতীত কর্মপরিচয় ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন: মো. শওগাতুল আলম ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারে কিউরেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময়ে তৎকালীন সরকারের রাজনৈতিক ভাবনাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্র তৈরির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল দাবি করে, মেট্রোরেলের মতো সংবেদনশীল ও প্রযুক্তিগত প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো পেশাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা: জাপানি প্রতিষ্ঠান মারুবেনিসহ অন্যান্য সহযোগী বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে, যা প্রকল্পের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনাকে হুমকির মুখে ফেলছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
মান ও রক্ষণাবেক্ষণ উদ্বেগ: প্রকল্পের নির্মাণকাজের মান, বিদ্যুৎব্যবস্থা এবং স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে একটি স্বাধীন কারিগরি নিরীক্ষা ও প্রশাসনিক পর্যালোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আবেদনে এমডির প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকল্পের অগ্রগতি ও নির্মাণকাজের মান যাচাই, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আচরণসংক্রান্ত অসন্তোষ নিরসন, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং তাঁর নিয়োগপ্রক্রিয়ার সঠিকতা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে অনিয়ম বা অবহেলার প্রমাণ মিললে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়।
মেট্রোরেল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়—জনগণের ট্যাক্সের অর্থে গড়ে ওঠা এই জাতীয় সম্পদে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আবেদনকারী।
এদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মেট্রোরেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শওগাতুল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর তরফ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও স্বাধীন তদন্তের ফলাফল ছাড়া এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
অনলাইন ডেস্ক 


















