
১৯৫৮ সাল থেকে চট্টগ্রামের কাস্টমস মোড়ে বন্দর ভবনের বিপরীতে নিজস্ব ভবনে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ। তবে যুগের চাহিদায় আরও আধুনিক ও উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে ৬৮ বছর বয়সী সেই পুরোনো ভবনটি ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর এর মধ্য দিয়ে শুরু হলো কাস্টম হাউজের এক নতুন অধ্যায়।
পুরোনো ভবন ভাঙার কাজ শুরু হওয়ায় নতুন ঠিকানায় স্থানান্তরিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এই দপ্তরের কার্যক্রম। এরই অংশ হিসেবে রোববার (আজ) সকাল থেকে আগ্রাবাদ মোড়ের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ভাড়া করা ফ্লোরে আনুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের বন্ড গ্রুপের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে কাস্টম হাউজের বাকি সব বিভাগও এই নতুন ভবনে চলে আসবে। এরপর থেকে শতভাগ কার্যক্রম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার থেকেই পরিচালিত হবে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার ও মুখপাত্র শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন জানান, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য কাস্টম হাউজ পুরোনো ভবন ছেড়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ভবনের অংশবিশেষ ভাঙার কাজও শুরু হয়েছে। আজ থেকে বন্ড গ্রুপের কার্যক্রম নতুন ঠিকানায় শুরু হলেও অন্য সেকশনগুলো পর্যায়ক্রমে এ মাসের মধ্যেই স্থানান্তরিত হবে।
অন্যদিকে, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম জানিয়েছেন, নতুন জায়গায় কাজ শুরু হওয়ায় তেমন কোনো বড় জটিলতায় পড়তে হয়নি। দাপ্তরিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার একটু সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এতে সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হবে না।
ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দুটি ফ্লোর ভাড়া নিয়েছে কাস্টম হাউজ। এর মধ্যে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬০০ বর্গফুট অফিস স্পেস এবং ৮ হাজার বর্গফুট গ্যারেজ রয়েছে। গত মে মাসে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, এই স্থানটির জন্য তিন বছরে মোট ৮১ কোটি টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে হবে।
বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ‘কাস্টমস মর্ডানাইজেশন অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় নির্মিত হতে যাচ্ছে এই আধুনিক কাস্টম হাউজ। শুধু মূল ভবনই নয়, এর পাশাপাশি সাগরিকা এলাকায় একটি কাস্টম ট্রেনিং সেন্টারও নির্মাণ করা হবে।
নতুন কাস্টম হাউজ ভবনটি হবে নান্দনিক ১৬ তলা বিশিষ্ট জাহাজ আকৃতির। যেখানে পার্কিং সুবিধার পাশাপাশি অত্যাধুনিক রাসায়নিক ল্যাব, আধুনিক অগ্নিুনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ডরমেটরিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রাখা হবে।
অনলাইন ডেস্ক 




















