
খাগড়াছড়ির পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি)-এর ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়েছে। রবিবার (১ নভেম্বর) দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা উত্তোলন, প্রীতিভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম, পিপিএম (সেবা), অর্ডন্যান্স ইউনিটের কোয়ার্টার গার্ডে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা করেন। দুপুরে ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত প্রীতিভোজে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি। এ সময় সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক বলেন, পানছড়ি ব্যাটালিয়নের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের পেছনে সাবেক ও বর্তমান সদস্যদের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, নিরলস পরিশ্রম ও আন্তরিক অবদান রয়েছে। একই সঙ্গে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং অপারেশন দাবাননে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
বক্তব্যে ব্যাটালিয়নের গত এক বছরের কার্যক্রম ও সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়, পানছড়ি এলাকা তুলনামূলক কম চোরাচালানপ্রবণ হলেও গত এক বছরে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানি মালামাল এবং ৪ হাজার ১৫৫ ঘনফুট অবৈধ কাঠ জব্দ করেছে ৩ বিজিবি। সম্প্রতি পৃথক দুটি অভিযানে একটি এসএমজি ও ১ হাজার ৫০০ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া গত ১৯ মে ২০২৬ তারিখে দুই সশস্ত্র জেএসএস সদস্য একটি অ্যাসল্ট রাইফেল, একটি শর্টগান, ১৮৮ রাউন্ড গুলি, ২৫ রাউন্ড স্মোক গুলি এবং শর্টগানের ৩৯ রাউন্ড গুলিসহ আত্মসমর্পণ করেন বলে বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
বক্তব্যে আরও জানানো হয়, ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে ব্যাটালিয়নটি। পাশাপাশি জন্মাষ্টমী ও শারদীয় দুর্গাপূজার মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে দায়িত্ব পালন করেছে বিজিবি সদস্যরা।
সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা, পুশইন ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ অনুপ্রবেশ রোধে ব্যাটালিয়নের ধারাবাহিক তৎপরতার কথাও তুলে ধরা হয়। অপারেশনাল সাফল্যের পাশাপাশি ক্রীড়া ও ধর্মীয় প্রতিযোগিতায়ও সাফল্য অর্জন করেছে পানছড়ি ব্যাটালিয়ন। ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম রিজিয়ন আন্তঃব্যাটালিয়ন আজান ও ক্বিরাত প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন এবং আন্তঃব্যাটালিয়ন ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে ইউনিটটি।
বক্তব্যের শেষাংশে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক বলেন, ‘বিজিবি হবে সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক’—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে ভবিষ্যতেও সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে দেশমাতৃকার সেবায় অবদান রাখতে চান তারা। এ জন্য সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
ফাহিম উদ্দিন, পানছড়ি প্রতিনিধি 






















