
রাজধানীর গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রকৌশলী মাসুদ রানার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার জালিয়াতি ও ফাইলওয়ার্কের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজের অবস্থান ও পদ-পদবী টিকিয়ে রাখার চতুর কৌশল এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ রয়েছে, বিতর্কিত এই প্রকৌশলী বিভিন্ন সময়ে নানান পরিচয়ে নিজের প্রভাব বজায় রেখে আসছেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকে শুরু করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বর্তমান সময়েও নিজের স্বার্থ হাসিলে তিনি বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের নাম ব্যবহার করে আসছেন। সহকর্মীদের কোণঠাসা করে লোভনীয় পদগুলো দখল এবং পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তিনি গণপূর্ত বিভাগে একক আধিপত্য বিস্তার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪ এর অধীনে প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের মোট ৪৪টি আরএফকিউ (RFQ) টেন্ডারের মাধ্যমে কোনো ধরনের মাঠপর্যায়ের কাজ না করেই প্রায় ৬৫ লাখ টাকা লোপাট করা হয়েছে। নামমাত্র ফাইলওয়ার্ক দেখিয়ে এসব বিল পাস করা হয়।
মালিবাগ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আবাসন: মালিবাগ এলাকার বিভিন্ন ভবন ও কোয়ার্টারে রিজার্ভার ট্যাংক পরিষ্কার, জোপঝাড় পরিষ্কার এবং রঙের কাজের নামে এডভ্যান্স ইন্টারন্যাশনাল এবং মেসার্স রাইয়ান এন্টারপ্রাইজ নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বেশ কয়েকটি আরএফকিউ দেওয়া হয়। এর মধ্যে টেন্ডার আইডি ১৩০০৮৫০, ১৩০০৮৪৬, ১৩০০৮৩৪ এবং ১৩০১০৬৯ এর মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে।
পূর্ত ভবন ও ইস্কাটন কোয়ার্টার: সেগুনবাগিচাস্থ পূর্ত ভবনের করিডোর রং করা, স্যানিটারি ফিটিংস পরিবর্তন এবং ইস্কাটন গার্ডেন সরকারি কর্মকর্তা কোয়ার্টারের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও মেরামতের নামে ওয়াসিক ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স হায়দার এন্টারপ্রাইজ, জাহানারা এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স রফিক ট্রেডার্সসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে একাধিক কোটেশন ইস্যু করা হয়।
সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট চত্বর: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ, এনেক্স ভবন, প্রশাসনিক ভবন-২ ও ৪, এবং ‘বিজয়-৭১’ ভবনের আশপাশ থেকে আবর্জনা পরিষ্কারের নামে ফরিদ এন্টারপ্রাইজ, ফারিহা এন্টারপ্রাইজ ও জুবায়ের এন্টারপ্রাইজকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চত্বর ও কনসুলার ভবন, শাহবাগস্থ বিসিএস প্রশাসন একাডেমি এবং ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪ এর চত্বরে সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার ও স্যানিটারি কাজের নামেও একইভাবে কোটেশনের মাধ্যমে অর্থ বরাদ্দ ও উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।
নিয়ম-নীতি ও সততার কথা বলে সভা-সেমিনারে বড় বড় বুলি আওড়ালেও মাঠপর্যায়ে কাজের কোনো অস্তিত্ব না রেখে এভাবেই ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুধু টেন্ডার জালিয়াতিই নয়, প্রকৌশলী মাসুদ রানার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। ঢাকার মিরপুরের পুলিশ স্টাফ কলেজের পেছনে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট, পাবনা শহরে ছয়তলা বাড়ি, নিজ উপজেলা পাবনার আতাইকুলায় অর্ধশতাধিক বিঘা জমি এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমবাগানসহ নামে-বেনামে শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। এছাড়া তার ব্যক্তিগত আচরণ ও অন্যান্য নানা অনিয়ম নিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























